
এআই-নির্ভর ভুয়া ভিডিও ও ফেক নিউজ রুখতে আইন সংশোধনের দাবি— অ্যাটর্নি জেনারেল
নিজস্ব প্রতিবেদক,আদালত বার্তাঃ৩ জুলাই ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে দেশে ভুয়া ভিডিও (ডিপফেক) ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান আইনকে সময়োপযোগী করতে সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কঠোর ও কার্যকর আইনি কাঠামো এখন সময়ের দাবি।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, এআই-নির্ভর ডিপফেক ভিডিও ব্যবহার করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এমনকি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সামাজিক অস্থিরতা ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান আইনগুলো আংশিকভাবে এসব অপরাধ মোকাবিলা করতে পারলেও, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও স্পষ্ট ও কঠোর বিধান প্রয়োজন।”
বর্তমানে বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমনে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৩ কার্যকর রয়েছে। এ আইনের বিভিন্ন ধারায় ভুয়া তথ্য প্রচার, মানহানি, রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। বিশেষ করে, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বর্তমান আইন আরও নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কারণ, এসব কনটেন্ট অনেক সময় এতটাই বাস্তবসম্মত হয় যে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রতারিত হয়। ফলে ব্যক্তিগত সুনামহানি, আর্থিক ক্ষতি এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, “আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তুলতে হবে এবং ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি, জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইন সংশোধনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। বিশেষ করে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়বদ্ধতার আওতায় এনে দ্রুত ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি যেমন উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, তেমনি এর অপব্যবহার রোধে কার্যকর আইন ও সচেতনতা ছাড়া নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই সময়োপযোগী আইন সংস্কার ও সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে এ সমস্যার টেকসই সমাধান।