মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
Title :
ছয় দশকে বদলে গেছে চারপাশ, রয়ে গেছে এরোপ্লেন মসজিদের ঐতিহ্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ হাইকোর্টের কারাগারে বন্দি মায়ের সঙ্গে ৩০৩ শিশু: হাইকোর্টে প্রতিবেদন ​শিশুদের নিকটাত্মীয় বা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ প্রমাণ ছাড়া শুধু পলাতক থাকলেই সাজা নয়: হাইকোর্ট সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার আইনের মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা মেলেনি: স্পিকার আইনজীবীদের আটক নিয়ে উত্তাল সুপ্রিম কোর্ট চত্বর, প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে মিলল মুক্তি অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার সংকোচন: রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতির গভীর সংকট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ, জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ মানবপাচার দমনে অগ্রগতির স্বীকৃতি, তবু টিয়ার-২ তালিকায় বাংলাদেশ

ছয় দশকে বদলে গেছে চারপাশ, রয়ে গেছে এরোপ্লেন মসজিদের ঐতিহ্য

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ছয় দশকে বদলে গেছে চারপাশ, রয়ে গেছে এরোপ্লেন মসজিদের ঐতিহ্য
১৯৬০-এর দশকের এলিফ্যান্ট রোড থেকে ২০২৬—একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার সময়ের সঙ্গে পথচলা
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
ঢাকার নগর ইতিহাসে এমন কিছু স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়—একটি সময়ের স্মৃতি, নগরের পরিচিতি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। পুরোনো এলিফ্যান্ট রোডের এরোপ্লেন মসজিদ তেমনই একটি স্থাপনা। ছাদের ওপর উড়োজাহাজের মডেল থাকার কারণে মসজিদটি কয়েক দশক ধরে ঢাকাবাসীর কাছে ‘এরোপ্লেন মসজিদ’ নামে পরিচিত।
আপনার দেওয়া ঐতিহাসিক ছবিতে দেখা যায়, ১৯৬০-এর দশকে মসজিদটির চারপাশ ছিল অপেক্ষাকৃত নিচু ভবন, খোলা জায়গা, সরু রাস্তা ও কম ঘনবসতিপূর্ণ নগর পরিবেশে ঘেরা। বিপরীতে বর্তমান সময়ে একই এলাকার চারপাশে গড়ে উঠেছে ঘন বহুতল নগরায়ণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আধুনিক অবকাঠামো। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়—মসজিদের স্বাতন্ত্র্যসূচক উড়োজাহাজের প্রতীকটি এখনো টিকে আছে।
১৯৬০ সালে যাত্রা শুরু
প্রথম আলোতে প্রকাশিত ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মো. ইসমাইল। তিনি পারিবারিক প্রায় ৯ কাঠা জমির ওপর ১৯৬০ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। প্রথম দিকে এটি ছিল একতলা ভবন এবং নির্মাণের পর ছাদের ওপর একটি উড়োজাহাজের আদলের মডেল স্থাপন করা হয়। 
প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরুর দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রাথমিক ভবনটি সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভবনটি সম্প্রসারণ করা হয়। ভবনের উচ্চতা যত বেড়েছে, উড়োজাহাজের মডেলটিকেও তত ওপরে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদটি পাঁচতলা ভবনে পরিণত হয়েছে। 
কেন ‘এরোপ্লেন মসজিদ’?
মসজিদের নামকরণের পেছনে প্রতিষ্ঠাতার সুনির্দিষ্ট লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রকাশিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা মসজিদটিকে একটি স্বতন্ত্র ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত করতে চেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। ষাটের দশকে ‘ছাতা মসজিদ’, ‘জাহাজ মসজিদ’সহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যনির্ভর নামে মসজিদ পরিচিত হওয়ার প্রবণতাও ছিল। 
অর্থাৎ উড়োজাহাজের মডেলটি শুধু অলংকার নয়—এটি ধীরে ধীরে মসজিদটির পরিচয় ও নামের অংশে পরিণত হয়েছে।
ছবিতে ১৯৬০-এর দশকের ঢাকা
আপনার দেওয়া ছবিটি বিশ্লেষণ করলে ওই সময়কার নগরজীবনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়—
মসজিদের আশপাশে একতলা ও নিম্ন উচ্চতার ভবন;
রাস্তার পাশে তুলনামূলক খোলা জায়গা;
সীমিত যানবাহন;
রাস্তার পাশে অপেক্ষাকৃত অনুন্নত পরিবেশ;
বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের সরল কাঠামো;
মানুষের চলাচল থাকলেও বর্তমান ঢাকার মতো অতিঘন নগরায়ণ নেই;
মসজিদটি আশপাশের স্থাপনার তুলনায় একটি দৃশ্যমান ল্যান্ডমার্ক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ছবিটির এই বৈশিষ্ট্যগুলো দেখায়, তখনকার এলিফ্যান্ট রোড আজকের মতো ঘন বাণিজ্যিক ও বহুতল নগরাঞ্চলে পরিণত হয়নি।
ছয় দশকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—নগরায়ণ
১৯৬০-এর দশকের ছবির সঙ্গে বর্তমান এলাকার চিত্র তুলনা করলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন চোখে পড়ে নগর ঘনত্বে।
একসময় মসজিদের চারপাশে নিচু ভবন ও অপেক্ষাকৃত উন্মুক্ত জায়গা থাকলেও বর্তমানে এলিফ্যান্ট রোড ও আশপাশের এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ নগর কাঠামোর অংশ। বর্তমানের বিভিন্ন অনলাইন লোকেশন তথ্যেও মসজিদটির ঠিকানা ৩৯০, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সরণি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; অর্থাৎ পুরোনো এলিফ্যান্ট রোডের নামের পরিবর্তনও সময়ের পরিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত।
শুধু ভবন নয়, বদলেছে সড়কের নামও
মসজিদটি যে সড়কে অবস্থিত, সেটি বর্তমানে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সরণি নামে পরিচিত। কিন্তু মানুষের মুখে ‘এলিফ্যান্ট রোডের এরোপ্লেন মসজিদ’ নামটি এখনো বহুল প্রচলিত। 
এখানেই ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—প্রশাসনিক বা আনুষ্ঠানিক নাম বদলালেও মানুষের স্মৃতিতে কোনো স্থানের পরিচিতি অনেক সময় থেকে যায়।
১৯৭৯ সালে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি
প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে মসজিদটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে মসজিদটির সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকে। ২০০২ সালে এখানে আবাসিক মাদ্রাসার কার্যক্রমও শুরু হয়। 
অর্থাৎ এটি শুধু নামাজের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; সময়ের সঙ্গে এর সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষার কার্যক্রমও যুক্ত হয়েছে।
২০২৬ সালেও সক্রিয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
মসজিদটির বর্তমান কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায় ২০২৬ সালের বিভিন্ন ঈদের জামাতসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্যে। ২৭ মে ২০২৬ প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে এরোপ্লেন জামে মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৬ সালেও মসজিদটি সক্রিয়ভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 
অনলাইন লোকেশন তথ্যেও মসজিদটির অবস্থান ও কার্যকর ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে উপস্থিতি পাওয়া যায়। 
মসজিদের বর্তমান ব্যবস্থাপনা
প্রথম আলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ পরিচালনায় খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, শিক্ষক, খাদেম ও নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন এবং মসজিদের সঙ্গে আবাসিক শিক্ষার্থীদের কার্যক্রমও যুক্ত রয়েছে। মসজিদের কিছু দোকান থেকে পাওয়া ভাড়া এবং দানবাক্সের অর্থ পরিচালনার অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—প্রায় ছয় দশক ধরে একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ কীভাবে ধীরে ধীরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনায় পরিণত হয়েছে, এরোপ্লেন মসজিদ তার একটি দৃষ্টান্ত।
১৯৬০ বনাম ২০২৬: কী বদলেছে, কী বদলায়নি?
বিষয়
১৯৬০-এর দশক
২০২৬
ভবন
প্রাথমিকভাবে একতলা
পাঁচতলা
পরিবেশ
কম ঘনবসতিপূর্ণ
ঘন নগরায়িত
আশপাশ
নিচু ভবন ও খোলা জায়গা
বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক পরিবেশ
সড়ক
এলিফ্যান্ট রোড
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সরণি
উড়োজাহাজের মডেল
মসজিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য
এখনো প্রধান পরিচয়
কার্যক্রম
মূলত মসজিদ
মসজিদ ও আবাসিক ধর্মীয় শিক্ষা
মালিকানা/ব্যবস্থাপনা
প্রতিষ্ঠাতার উদ্যোগ
ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে পরিচালিত
ঐতিহাসিক পরিচিতি
নতুন ও ব্যতিক্রমী স্থাপনা
ঢাকার পরিচিত ঐতিহ্যবাহী ল্যান্ডমার্ক
ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
এরোপ্লেন মসজিদের গল্প আসলে একটি মসজিদের গল্পের চেয়েও বড়। এটি ঢাকার নগর বিবর্তনের একটি দৃশ্যমান দলিল।
১৯৬০-এর দশকের ছবিতে যেখানে মসজিদটির চারপাশে ছিল অপেক্ষাকৃত ফাঁকা নগরপরিসর, ছয় দশক পর সেখানে তৈরি হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর। ভবন বেড়েছে, রাস্তার পরিচয় বদলেছে, আশপাশের স্থাপত্য বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে—কিন্তু মসজিদের ছাদের উড়োজাহাজটি এখনো অতীতের সঙ্গে বর্তমানের একটি দৃশ্যমান সেতু হয়ে আছে।
এ কারণেই এরোপ্লেন মসজিদকে শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে নয়, ঢাকার নগর-ঐতিহ্যের একটি সংরক্ষণযোগ্য নিদর্শন হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
আদালত বার্তার জন্য সম্ভাব্য শিরোনাম
“ছয় দশকে বদলে গেছে এলিফ্যান্ট রোড, বদলায়নি এরোপ্লেন মসজিদের পরিচয়”
অথবা আরও শক্তিশালী:
“১৯৬০ থেকে ২০২৬: বদলে যাওয়া ঢাকার বুকে এখনো উড়ছে এরোপ্লেন মসজিদের স্মৃতি”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট