মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন
Title :
ঢাকার আদালতকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করতে হাইকোর্টে রিট। জরুরি প্রস্তুতিতে খাবার-পানি মজুদের হিড়িক: আসন্ন কোনো বিপর্যয়, নাকি বৈশ্বিক আত্মরক্ষার আগাম কৌশল শৃঙ্খল ভেঙে সাফল্যের শিখরে ব্যারিস্টার আঞ্জুমান আরা লিমার হার না মানা জীবনযুদ্ধ সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলা: রিমান্ডে দিশা আইনজীবী হলেই জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা যায় না: হাইকোর্ট মিরপুরে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, এলাকা রণক্ষেত্র শুধু নথিপত্র যাচাইয়ের অজুহাতে পুরোনো কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট ডিজিটালাইজেশন ও আইনজীবী কল্যাণে ঢাকা ট্যাক্সেস বার: ওকালতনামায় কিউআর কোড সংযোজন, চিকিৎসা সুবিধা ও স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্নপূরণ পুলিশের ধাওয়ায় তুরাগে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাহসিফ? দীপের বক্তব্যে নতুন তথ্য, পুরোপুরি আশ্বস্ত নয় পিবিআই একসঙ্গে দুই পেশা: সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতির শোকজ

ঢাকার আদালতকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করতে হাইকোর্টে রিট।

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

​ঢাকার আদালতকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করতে হাইকোর্টে রিট।

আদালত বার্তা ডেস্ক | ৩ নভেম্বর, ২০২৬

বিচারিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জট কমাতে দুই অঞ্চলে পুনর্গঠনের দাবি

​রাজধানী ঢাকার আদালতপাড়ার উপচে পড়া ভিড় সামাল দেওয়া, বিচারপ্রার্থীদের সীমাহীন ভোগান্তি হ্রাস এবং সার্বিক বিচারিক কার্যক্রমে গতি আনতে ঢাকার বিচার প্রশাসনকে দুই ভাগে বিভক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মো. সালাহ উদ্দিন রিগ্যান।

​মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রিটকারী আইনজীবী বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

​রিটের মূল দাবি ও প্রস্তাবনা

​রিট আবেদনে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক ভিত্তিতে বিভক্ত করে দুটি পৃথক বিচারিক অঞ্চল গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে:

  • ​ঢাকা উত্তর অঞ্চল: ঢাকা উত্তর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা উত্তর মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা।
  • ​ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চল: ঢাকা দক্ষিণ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা দক্ষিণ মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা।

​পটভূমি ও পূর্ববর্তী আইনি পদক্ষেপ

​এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, আইনগত ও বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা/মন্ত্রী, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

​নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর প্রশাসনিক অগ্রগতি বা দৃশ্যমান সাড়া না পাওয়ায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় জনস্বার্থে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী।

​কেন এই বিভাজন জরুরি: নোটিশ ও রিটের যুক্তি

​রিট আবেদনে ঢাকার বিদ্যমান বিচারিক ব্যবস্থার জটিলতা ও প্রয়োজনীয়তার পক্ষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়:

  • ​জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি: ঢাকার বিপুল জনসংখ্যা এবং দুই সিটি করপোরেশনের সুবিশাল ভৌগোলিক পরিধির তুলনায় পুরান ঢাকার একটি নির্দিষ্ট স্থানে কেন্দ্রীভূত আদালত ব্যবস্থা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
  • ​মামলার নজিরবিহীন চাপ: দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এবং মহানগর ফৌজদারি মামলার পাহাড়সম জটের কারণে বিচার প্রশাসন তীব্র চাপের মুখে পড়ছে।
  • ​যাতায়াত ভোগান্তি ও সময় অপচয়: উত্তর বা দূরবর্তী এলাকা থেকে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, সাক্ষী এবং পুলিশ সদস্যদের যানজট পেরিয়ে পুরান ঢাকায় পৌঁছাতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ও বিপুল অর্থ অপচয় হয়।
  • ​বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি: প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ও এজলাস সংকটের কারণে সময়মতো সাক্ষ্য গ্রহণ ও মামলার নিয়মিত শুনানিতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

​সম্ভাব্য প্রভাব

​আইনজীবীদের মতে, সিটি করপোরেশনের আদলে ঢাকার বিচারিক কাঠামোকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করা গেলে বিচার প্রশাসন বিকেন্দ্রীভূত হবে। এতে মামলার চাপ সুষমভাবে বণ্টিত হওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার দ্রুত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

​হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট দ্বৈত বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট