শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
Title :
আইন পেশায় সফলতার মূলমন্ত্র মেধা, সততা ও পরিশ্রম: নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী হিমালয়ের বিপর্যয়: নেপালের আকস্মিক বন্যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে ‘ক্যাসকেডিং হ্যাজার্ড’, চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ ভাটির দেশগুলো বিচারক-গাড়িচালকের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ কাপ্তাই হ্রদে জেলেদের প্রাণরক্ষায় ৬৬ বজ্র নিরোধক নিরাপত্তার নতুন উদ্যোগ, তবে প্রয়োজন আগাম সতর্কবার্তাও বাংলাদেশে ঢুকবে নেপালের পাহাড়ি ঢল, দেওয়া হলো পানির গতিপথ নেপালে হঠাৎ প্রলয়ংকরী বন্যা: বৃষ্টি ছাড়াই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে কী? জীবনের অমোঘ চক্র: দোলনা থেকে শূন্যতায় ফেরার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি এআই দিয়ে ভুলেও যে ১১টি কাজ করবেন না প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর ঝুঁকি, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রয়োজন মানবিক বিবেচনা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রশ্ন করা সাংবাদিকের পেশাগত অধিকার: রাজনৈতিক মতাদর্শ ফৌজদারি অপরাধ নয় বাংলাদেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হতে পেরেছে?  রাজনৈতিক বিভাজন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির অন্তরালে সংকট—উত্তরণের পথ কোনটি?

ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা: বাস্তবতার স্বীকারোক্তি, নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতার গ্রহণযোগ্যতা?

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা: বাস্তবতার স্বীকারোক্তি, নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতার গ্রহণযোগ্যতা?
সম্পাদকীয়, আদালত বার্তাঃ ১৩ জুলাই
সম্প্রতি বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আব্দুল্লাহ  বলেন, “বন্যাকবলিত এলাকায় সব সুশৃঙ্খল থাকবে—এই প্রত্যাশা অনুচিত।” তার এই মন্তব্য জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্রের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার মানদণ্ডকে শিথিল করার ঝুঁকি তৈরি করে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা হলো, আকস্মিক বন্যা, সীমিত অবকাঠামো, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, বিপুল সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চাপ এবং সীমিত জনবল—এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রেই শতভাগ শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মাঠপর্যায়ে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সময় সাময়িক বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির একটি স্বীকারোক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যায়—বাস্তবতার কথা বলা কি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কিছু অনিয়ম বা চাপ সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ এবং বৈষম্যহীন ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিত করা। কারণ বিশৃঙ্খলার সুযোগে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হতে পারেন, আবার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও বাড়তে পারে।
জনগণের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ দুর্যোগের সময় সরকারের কাছ থেকে নিখুঁত নয়, তবে কার্যকর, ন্যায্য ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা প্রত্যাশা করে। ফলে “সবকিছু শতভাগ সুশৃঙ্খল হবে না”—এই বক্তব্য অনেকের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হলেও, যদি এটি সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে বিশৃঙ্খলাকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা কমাতে আগাম পরিকল্পনা, ডিজিটাল উপকারভোগী তালিকা, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গণমাধ্যমের সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়াই গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার পরিচয়।
সব মিলিয়ে, হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য আংশিকভাবে বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে এটি তখনই জনগণের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, যখন সেই বক্তব্যের সঙ্গে বিশৃঙ্খলা কমানোর সুস্পষ্ট উদ্যোগ, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতিও যুক্ত থাকবে। অন্যথায় অনেকের কাছে এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার ব্যাখ্যা বা দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবেও প্রতীয়মান হতে পারে। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাস্তবতা স্বীকার করার পাশাপাশি দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই জনআস্থা অর্জনের প্রধান শর্ত।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট