বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন
Title :
প্রশিক্ষণ নিতে জাপান যাচ্ছেন ১৭ বিচারক ও ৬ আইনজীবী নস্টালজিয়ার এক ঝলক: পুরান ঢাকায় যখন দাপিয়ে বেড়াত ঐতিহ্যবাহী ‘মুড়ির টিন’ কেন আন্দোলনে যাবো না?’— ১৪ বছরের ইমনের রক্তাক্ত পরিণতির কথা ট্রাইব্যুনালে জানালেন মা স্নেহের আঁচলে মহত্তম আত্মত্যাগ: মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির তিন অমর শিক্ষিকা ও আমাদের বাস্তবতা বাধার পাহাড় পেরিয়েই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে হয় সংগ্রাম, ব্যর্থতা ও প্রতিকূলতাই মানুষকে সাফল্যের প্রকৃত মূল্য শেখায় দেনমোহর আদায়ে বাধ্য করা হলে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারবেন আদালত: হাইকোর্ট কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন

নস্টালজিয়ার এক ঝলক: পুরান ঢাকায় যখন দাপিয়ে বেড়াত ঐতিহ্যবাহী ‘মুড়ির টিন’

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

নস্টালজিয়ার এক ঝলক: পুরান ঢাকায় যখন দাপিয়ে বেড়াত ঐতিহ্যবাহী ‘মুড়ির টিন’

​নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা:৮অক্টোবর ২০২৬।

​সময়ের গহ্বরে হারিয়ে গেছে পুরান ঢাকার সেই চিরচেনা রূপ। তবে মাঝেমধ্যেই পুরনো কোনো ছবি বা স্মৃতিচিহ্ন যেন মুহূর্তেই জীবন্ত করে তোলে অতীতকে। সম্প্রতি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির সাহায্যে রঙিন করা একটি দুর্লভ ছবি নতুন করে সামনে এসেছে, যা ঢাকাবাসীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক সোনালি অতীতে। হারিয়ে যাওয়া সময়ের সাক্ষী এই ছবিতে ফুটে উঠেছে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের (সাবেক ভিক্টোরিয়া পার্ক) ঐতিহাসিক লাল ইটের পানির ট্যাঙ্ক এবং একসময় ঢাকার রাস্তার প্রাণস্পন্দন—ঐতিহ্যবাহী ‘মুড়ির টিন’ যাত্রীবাহী বাস।

​ছবিতে পার্কের পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন লাল ইটের পানির ট্যাঙ্কটি কেবল একটি ইমারত নয়, এটি ঢাকার প্রাচীন নগর-উন্নয়ন ও জনকল্যাণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সে যুগে নগরবাসীর সুপেয় পানির তীব্র চাহিদা মেটাতে এই ট্যাঙ্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। আর এই ঐতিহাসিক স্থাপনার ঠিক পাশেই ছবিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে অদ্ভুত আকৃতির সেই ভিনটেজ গাড়িগুলো, যা ঢাকার পরিবহন ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়।

​আজকের আধুনিক এসি বাস বা মেট্রো রেলের যুগে ‘মুড়ির টিন’ নামটা নতুন প্রজন্মের কাছে কিছুটা কৌতূহলোদ্দীপক মনে হলেও, একসময় এটিই ছিল ঢাকার রাজপথের প্রধান বাহন। মূলত টিনের তৈরি বডি এবং ভেতরে যাত্রীদের মুড়ির মতো ঠাসাঠাসি করে বসার কারণে সাধারণ মানুষ এই বাসগুলোর নাম দিয়েছিল ‘মুড়ির টিন’। গাড়িগুলো আকারে খুব একটা বড় ছিল না, আর আসন ব্যবস্থাও ছিল বেশ আঁটসাঁট। তবুও এর ভেতরে বিরাজ করত এক অদ্ভুত আন্তরিক ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ, যা তৎকালীন ঢাকার সমাজচিত্রের একটি খণ্ডরূপ।

​তৎকালীন ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রুটে যাত্রী যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল এই বাসগুলো। প্রতিদিন হাজারো কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রী এই বাসে চেপেই পাড়ি দিতেন নিজেদের গন্তব্যে। আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগে, যুগের পর যুগ ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষকে নিরলসভাবে বহন করে নিয়ে গেছে এই মুড়ির টিন।

​ইতিহাসবিশারদ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই ছবিটি কেবল পুরনো ল্যান্ডমার্কের কোনো সাধারণ দলিল নয়, বরং এটি ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার এক হারিয়ে যাওয়া যুগের অমূল্য স্মারক। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঢাকা শহর আজ অনেক বদলে গেছে, প্রসারিত হয়েছে এর সীমানা; কিন্তু পুরনো ঢাকার এই হারিয়ে যাওয়া রূপ আর ‘মুড়ির টিন’-এর নস্টালজিয়া আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে আজীবন সযত্নে রক্ষিত থাকবে নগরবাসীর হৃদয়ের মণিকোঠায়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট