
বর্ডার পার হওয়ার আগে অবশ্যই পোর্ট ট্যাক্স ও ভ্রমণ কর সঙ্গে রাখবেন
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ২৩অক্টোবর ২০২৬
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও ভিসার পাশাপাশি নির্ধারিত ভ্রমণ কর এবং বন্দর-সংশ্লিষ্ট ফি পরিশোধের বিষয়টি যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত পার হওয়ার আগে এসব কর ও ফি পরিশোধের প্রমাণপত্র সঙ্গে না থাকলে ইমিগ্রেশন ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় বা ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে স্থলপথে ভারতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত ভ্রমণ কর প্রতি যাত্রী ১ হাজার টাকা। এর সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দর-সংশ্লিষ্ট পোর্ট/বন্দর ফি ৫৬ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে ভ্রমণ কর ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়।
এদিকে নতুন বছরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষও পেট্রাপোল স্থলবন্দরে Passenger User Charge (PUC) চালু করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভারতীয়, বাংলাদেশি ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণভাবে ২০০ ভারতীয় রুপি, তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ রুপি বা ৫ মার্কিন ডলার এবং ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ৫০ রুপি নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা আধুনিকায়ন ও নতুন যাত্রী টার্মিনালের সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এ চার্জ চালু করা হয়েছে।
ফলে ভারতগামী বাংলাদেশি যাত্রীদের সীমান্ত পার হওয়ার আগে কেবল পাসপোর্ট ও ভিসা সঙ্গে রাখলেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। ভ্রমণ কর, বন্দর ফি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অপর পক্ষের বন্দর বা যাত্রীসেবা ফি সম্পর্কেও আগে থেকে ধারণা থাকা জরুরি।
কেন আগে থেকেই কর ও ফি পরিশোধ করা প্রয়োজন
স্থলবন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষা, কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। বাংলাদেশ ট্রেড পোর্টালের প্রকাশিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, স্থলবন্দরে প্রবেশের পর নিরাপত্তা যাচাইয়ের পাশাপাশি যাত্রীর ভ্রমণ করের চালান পরীক্ষা করা হয় এবং এরপর কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে যাত্রী জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করেন।
এ কারণে সীমান্তে পৌঁছে শেষ মুহূর্তে কর বা ফি পরিশোধের চেষ্টা করলে সময়ক্ষেপণ হতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইনেও কিছু ফি পরিশোধের সুযোগ
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বেনাপোল স্থলবন্দরে পোর্ট ট্যাক্স অনলাইনে পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। মোবাইল ব্যাংকিং বা এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ভ্রমণ করের পাশাপাশি পোর্ট ট্যাক্স পরিশোধের সুবিধার কথাও জানানো হয়।
যাত্রীদের জন্য সতর্কতা
সীমান্ত ভ্রমণের আগে যাত্রীদের উচিত—
১. পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসা সঙ্গে রাখা;
২. ভ্রমণ কর পরিশোধের চালান/রসিদ সংরক্ষণ করা;
৩. প্রযোজ্য পোর্ট ট্যাক্স বা বন্দর ফি পরিশোধ করা;
৪. গন্তব্য দেশের বন্দর বা যাত্রীসেবা ফি থাকলে তার পরিমাণ আগে জেনে নেওয়া;
৫. প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ ও বৈধ পেমেন্ট মাধ্যম সঙ্গে রাখা;
৬. কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত অর্থ না দেওয়া;
৭. সরকারি কাউন্টার বা অনুমোদিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত–বাংলাদেশ স্থলপথে যাত্রী চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বেনাপোল দিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত যাত্রী চলাচল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে, সীমান্ত ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় কর ও ফি সম্পর্কে আগাম নিশ্চিত হওয়া এবং পরিশোধের রসিদ সঙ্গে রাখা যাত্রীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি—তিনটিই কমাতে পারে। তাই বলা যায়—
“বর্ডার পার হওয়ার আগে অবশ্যই পোর্ট ট্যাক্স ও ভ্রমণ কর সঙ্গে রাখুন—শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে আগেই সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করুন।”
নোট: এখানে “পোর্ট ট্যাক্স” ও “ভ্রমণ কর”কে একই কর হিসেবে নয়, পৃথক বন্দর-সংশ্লিষ্ট ফি ও সরকারি ভ্রমণ কর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ভ্রমণ কর ১,০০০ টাকা এবং পোর্ট ফি ৫৬ টাকা উল্লেখ আছে।