বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
Title :
ধানমন্ডির ফুটপাতে বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর ভাইরাল ভিডিওর ঘটনায় যুবক আটক পরকালের জীবনে বিশ্বাসে এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ৯৮.৮ শতাংশ মানুষের বিশ্বাস মানবতাবিরোধী অপরাধে ১০ বছরের সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করলেন হাসানুল হক ইনু চাকরিতে অর্জিত অধিকার ও পদোন্নতির যোগ্যতা নতুন বিধিতে বাতিল করা যাবে না: হাইকোর্ট ৩৫ বছর বয়সের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের উদ্যোগ: আইনমন্ত্রী ছয় দশকে বদলে গেছে চারপাশ, রয়ে গেছে এরোপ্লেন মসজিদের ঐতিহ্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ হাইকোর্টের কারাগারে বন্দি মায়ের সঙ্গে ৩০৩ শিশু: হাইকোর্টে প্রতিবেদন ​শিশুদের নিকটাত্মীয় বা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ প্রমাণ ছাড়া শুধু পলাতক থাকলেই সাজা নয়: হাইকোর্ট সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার আইনের মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

পরকালের জীবনে বিশ্বাসে এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ৯৮.৮ শতাংশ মানুষের বিশ্বাস

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

পরকালের জীবনে বিশ্বাসে এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ৯৮.৮ শতাংশ মানুষের বিশ্বাস
বিশ্ব মূল্যবোধ জরিপের তথ্য বলছে—জীবন-মৃত্যু ও পরকাল সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের বিশ্বাস অত্যন্ত গভীর

নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা ১৪অক্টোবর ২০২৬ 
পরকাল বা মৃত্যুর পর জীবনের অস্তিত্বে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। World Values Survey (WVS) 2017–2022-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এশিয়ার নির্বাচিত দেশগুলোর তুলনামূলক হিসাবে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৯৮.৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা মৃত্যুর পর জীবনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। এ তালিকায় বাংলাদেশের পর রয়েছে তুরস্ক ৯১.৮ শতাংশ, ইরান ৯১.৩ শতাংশ এবং পাকিস্তান ৮৯.৩ শতাংশ। 
বিশ্ব মূল্যবোধ জরিপ একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা উদ্যোগ, যেখানে বিভিন্ন দেশের মানুষের মূল্যবোধ, বিশ্বাস, ধর্মীয় মনোভাব, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক মূল্যবোধসহ নানা বিষয়ে তুলনামূলক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। WVS-এর সপ্তম ধাপে ২০১৭–২০২২ সময়ে ৬৪টি দেশ ও সমাজের জরিপ পরিচালিত হয় এবং ৮০ হাজারের বেশি উত্তরদাতার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
বাংলাদেশের পর তুরস্ক, ইরান ও পাকিস্তান
WVS-ভিত্তিক প্রকাশিত তালিকায় পরকাল বিশ্বাসের হারে বাংলাদেশের পর তুরস্কের অবস্থান। তুরস্কে ৯১.৮ শতাংশ, ইরানে ৯১.৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৮৯.৩ শতাংশ উত্তরদাতা পরকাল বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন।
এরপর রয়েছে ফিলিপাইন ৮৩.৮ শতাংশ, মালয়েশিয়া ৮১.৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৭৩.৫ শতাংশ, থাইল্যান্ড ৫৭.১ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৩৪.১ শতাংশ, জাপান ৩২.২ শতাংশ এবং চীন ১১.৫ শতাংশ। 
অর্থাৎ, তালিকায় বাংলাদেশের ৯৮.৮ শতাংশের বিপরীতে চীনের হার ১১.৫ শতাংশ—দুই দেশের মধ্যে ব্যবধান ৮৭.৩ শতাংশ-পয়েন্ট। একই সঙ্গে বাংলাদেশের হার তুরস্কের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ-পয়েন্ট বেশি।
জরিপে আসলে কী জানতে চাওয়া হয়েছিল?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি সরাসরি ‘ধর্মীয় মানুষ’ হওয়ার পরিমাপ নয়। WVS-এর মূল প্রশ্নপত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধের অংশ হিসেবে উত্তরদাতাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে—তারা “Life after death” অর্থাৎ মৃত্যুর পর জীবনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন কি না। প্রশ্নটির উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ হিসেবে দেওয়ার পাশাপাশি ‘জানি না’ ও ‘উত্তর দিতে অনিচ্ছুক/উত্তর নেই’ ধরনের কোডও রাখা হয়েছে।

ফলে ৯৮.৮ শতাংশের পরিসংখ্যানকে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রত্যেক ব্যক্তির ধর্মীয় অনুশীলনের পরিমাপ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরের পরিসংখ্যান।
ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধের সম্পর্ক
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরকাল বিশ্বাসের এত উচ্চ হার দেশটির সামগ্রিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে তুলে ধরে। WVS-এর নিজস্ব বিশ্লেষণেও বাংলাদেশকে তুলনামূলকভাবে Traditional Values বা ঐতিহ্যনির্ভর মূল্যবোধের উচ্চ স্কোরধারী সমাজগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। এই মূল্যবোধের মাত্রার সঙ্গে ধর্ম, পরিবার, কর্তৃত্ব ও নৈতিকতার মতো বিষয়গুলোর সম্পর্ক রয়েছে। 
তবে পরকাল বিশ্বাসের উচ্চ হারকে সরাসরি কোনো দেশের মানুষের নৈতিকতা, সততা, আইন মানার প্রবণতা কিংবা সামাজিক আচরণের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বিশ্বাস একটি বিষয়; সেই বিশ্বাসের বাস্তব সামাজিক ও নৈতিক প্রয়োগ আরেকটি বিষয়।
এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো সমাজে বিপুলসংখ্যক মানুষ পরকাল বিশ্বাস করলেও সেই সমাজের দুর্নীতি, অপরাধ, বৈষম্য, সামাজিক আস্থা, আইনের শাসন কিংবা মানবিক আচরণের বাস্তব চিত্র আলাদাভাবে পরিমাপ করতে হয়।
বাংলাদেশের জন্য পরিসংখ্যানটির তাৎপর্য কোথায়?
৯৮.৮ শতাংশের এই তথ্য বাংলাদেশের সমাজে ধর্মীয় বিশ্বাসের গভীরতার একটি শক্তিশালী সূচক। মৃত্যুর পর জবাবদিহি ও জীবনের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা এবং সামাজিক মূল্যবোধকে প্রভাবিত করতে পারে—যদিও একটি জরিপের পরিসংখ্যান দিয়ে সেই প্রভাবের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না।
এখানেই তথ্যটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্ন সামনে আসে—পরকালের জবাবদিহিতে বিশ্বাস যদি এত ব্যাপক হয়, তবে সেই বিশ্বাস বর্তমান জীবনে সততা, ন্যায়বিচার, মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধায় কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে?
পরিসংখ্যানটি তাই শুধু আত্মিক বিশ্বাসের তথ্য নয়; এটি বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক চর্চা নিয়ে আরও গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।
একটি তথ্যগত সতর্কতা
প্রচারিত গ্রাফিকটিতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ১০টি এশীয় দেশের তুলনা করা হয়েছে। এটিকে এশিয়ার সব দেশের পূর্ণাঙ্গ র‌্যাংকিং হিসেবে না দেখে WVS-ভিত্তিক প্রকাশিত নির্বাচিত দেশগুলোর তালিকা হিসেবে দেখা বেশি নির্ভুল। উদাহরণ হিসেবে, WVS-ভিত্তিক অন্য একটি বৈশ্বিক উপস্থাপনায় মালদ্বীপের পরকাল বিশ্বাসের হার ৯৮.৩ শতাংশ দেখানো হয়েছে—যা বাংলাদেশের ৯৮.৮ শতাংশের চেয়ে সামান্য কম। অর্থাৎ বাংলাদেশ শীর্ষে থাকার দাবিটি বহাল থাকলেও কোন কোন দেশ ও কোন ডেটা-সেট তুলনায় নেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করা জরুরি। 

বৃহত্তর চিত্র
বিশ্বজুড়ে পরকাল সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাসে বড় ধরনের বৈচিত্র্য রয়েছে। WVS-ভিত্তিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ৯৮.৮ শতাংশ নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, বিপরীতে চীনে এ হার ১১.৫ শতাংশ। জাপানে ৩২.২ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে ৩৪.১ শতাংশ। অর্থাৎ একই এশিয়া মহাদেশের মধ্যেই মৃত্যুর পর জীবন সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। 
এই বৈচিত্র্য ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, সামাজিক কাঠামো ও আধুনিকায়নের ভিন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এসব সম্পর্ককে কারণ-ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আলাদা গবেষণা প্রয়োজন।

৯৮.৮ শতাংশ—সংখ্যাটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মানসিকতার একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র তুলে ধরে। তবে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য সম্ভবত সংখ্যাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
যদি প্রায় সমগ্র সমাজই পরকালের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, তাহলে সেই বিশ্বাস বর্তমান জীবনের ন্যায়বোধ, মানবিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও আইনের শাসনের প্রতি আচরণে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে—এই প্রশ্নটিই হতে পারে পরবর্তী গবেষণা ও সামাজিক আলোচনার বিষয়।
আদালত বার্তার দৃষ্টিতে, পরকাল বিশ্বাসের এই পরিসংখ্যানকে কেবল ধর্মীয় আবেগের তথ্য হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও নাগরিক আচরণ নিয়ে গভীরতর আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত হিসেবেও দেখা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: World Values Survey (WVS), Wave 7 (2017–2022); WVS Questionnaire—Q166, Life after death; WVS-ভিত্তিক প্রকাশিত তুলনামূলক পরিসংখ্যান। WVS-এর অফিসিয়াল ডেটাসেটের উদ্ধৃতি: Haerpfer et al., World Values Survey Wave 7 (2017–2022) Cross-National Data-Set, Version 4.0.0. 
worldvaluessurvey.org +1
World Values Survey—Wave 7 ডেটা ও ডকুমেন্টেশন⁠

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট