
এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক, 
ছবি সংগ্রহীত
আদালত বার্তাঃ১২ মে ২০২৬
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানাই আন্তরিক স্বাগতম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা ছিল বাস্তবমুখী, ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় ভরপুর। পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও শক্তিশালী করার যে প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুস্তরীয় এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রোথিত। ভাষা, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক নৈকট্য—সব মিলিয়ে এই সম্পর্ক এক অনন্য বন্ধনে আবদ্ধ। সময়ের পরিক্রমায় নানা চ্যালেঞ্জ ও মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক নির্ভরতা ও সহযোগিতার চেতনা কখনো নিঃশেষ হয়নি।
নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যে যে আন্তরিকতার প্রতিফলন আমরা দেখেছি, তা যদি বাস্তব কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়, তবে নিঃসন্দেহে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সমন্বিত ও সদিচ্ছাপূর্ণ উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, সম্মানজনক এবং ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে ওঠা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য।
আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি, নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন গতি পাবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং সমতার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে এক সমৃদ্ধ অংশীদারিত্ব—যা দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এই প্রত্যাশাই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় বার্তা।