মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
Title :
কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই

মব জাস্টিস ও আমাদের অসুস্থ সমাজ: বিচারহীনতা ও ‘সিলেক্টিভ প্রতিবাদ’-এর সংস্কৃতিতে জিম্মি মানবতা।

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

মব জাস্টিস ও আমাদের অসুস্থ সমাজ: বিচারহীনতা ও ‘সিলেক্টিভ প্রতিবাদ’-এর সংস্কৃতিতে জিম্মি মানবতা।

বিশেষ প্রতিবেদন,আদালত বার্তাঃ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

​সাম্প্রতিক সময়ে খুলনাতে ভাত চুরির অভিযোগে আজমুল নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে মেসে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা সমাজে চলমান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতাকে আবারও সামনে এনেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মুঠোফোন চুরির সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে দফায় দফায় নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার স্মৃতি। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির সংস্কৃতি সমাজকে চরম অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। “আমরা কি এই ‘অসুস্থ সমাজ’ রেহাই পাবো?”।

​দরিদ্রের বিচারহীনতা ও আস্থার চরম সংকট

খুলনার ঘটনায় নিহত তরুণের বাবার আক্ষেপ আমাদের বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রান্তিক মানুষের আস্থার চরম সংকটকে তুলে ধরে। ছেলের হত্যার বিচার না চেয়ে তার এই বক্তব্য—”আমি কার কাছে এ বিচার দিব? আমরা গরিব মানুষ‚ বাড়ি অনেক দূরে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম!”—প্রমাণ করে যে, দুর্বল ও অসহায়দের কাছে আইনি প্রতিকার এখনো কতটা দুর্গম। তোফাজ্জল হত্যার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়ার স্থবিরতা এই আস্থার সংকটকে আরও ঘনীভূত করে। ২৮ জন আসামির মধ্যে মাত্র ২ জন কারাগারে, ৯ জন জামিনে এবং পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও ১৭ জনের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো প্রমাণ করে যে, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই মব জাস্টিসকে উৎসাহিত করছে।

​বিশ্বজিৎ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: থামছে না বর্বরতা

মব জাস্টিসের এই বীভৎসতা কেবল চুরির সন্দেহে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রাজনৈতিক বা আদর্শিক ক্ষোভ মেটানোর হাতিয়ারেও পরিণত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে দলীয় অপরাধে এক যুবককে খাম্বার সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে প্রহার করার ঘটনা এর জ্বলন্ত প্রমাণ। পরিস্থিতি সামান্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই ২০১২ সালে পুরান ঢাকায় নিরীহ দর্জি বিশ্বজিৎ দাসের মতো মর্মান্তিক পরিণতি হতে পারত। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে এবং দণ্ডিত আসামিরা যাবজ্জীবন সাজা খাটছে সত্য, কিন্তু সেই আইনি দৃষ্টান্ত সমাজ থেকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বিন্দুমাত্র কমাতে পারেনি।

​দ্বিমুখী মানবতা ও সিলেক্টিভ প্রতিবাদ

বর্তমান সমাজের সবচেয়ে বড় অবক্ষয়ের জায়গাটি হলো ‘দ্বিমুখী মানবতা’। সমাজ একপক্ষের ওপর নির্যাতনে ব্যথিত হয়, কিন্তু মতাদর্শগত বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর একই বর্বরতা দেখে উল্লাস প্রকাশ করে। মানবাধিকার কোনো শর্তসাপেক্ষ বিষয় হতে পারে না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করাই একমাত্র সভ্য পদ্ধতি। এই ‘সিলেক্টিভ প্রতিবাদ’ আদতে অপরাধীদেরই নৈতিক বৈধতা দেয় এবং সমাজে মব কালচারকে স্থায়ী রূপ দেয়।

​প্রতিকার ও প্রত্যাশা

এই অসুস্থ মব-কালচার থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ। তোফাজ্জল বা খুলনার তরুণের মতো অসহায়দের হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সমাজে এই বার্তা পৌঁছায় যে—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে ‘দ্বিমুখী মানবতা’ পরিহার করে সর্বজনীন মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো জরুরি। নাগরিকদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বাধ্য করার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র ও প্রশাসন কঠোর না হলে এই ‘অসুস্থ সমাজ’ থেকে আমাদের মুক্তি মিলবে না

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট