
শামসুল আলম-এর ‘রাষ্ট্রের চাকা ঘুরুক, কিন্তু মানুষ যেন তার নিচে না পড়ে’ কলামটি সাম্প্রতিক বাংলাদেশে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও নগর ব্যবস্থাপনার সংস্কার এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকে কেন্দ্র করে লেখা একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পর্যবেক্ষণ।
আদালত বার্তার নীতি ও সম্পাদকীয় ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, আইনি দৃষ্টিভঙ্গি, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিবন্ধটির একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও প্রচ্ছদ নিবন্ধ (Opinion/Editorial Focus) উপস্থাপন করা হলো:

মূল ভাবনা: শামসুল আলম (সাবেক সচিব ও সিনিয়র ব্যুরোক্রেট)
বিশেষ বিশ্লেষণ ও সম্পাদনা: আদালত বার্তা বিভাগ
একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান শক্তি তার আইন, প্রতিষ্ঠান এবং জনকল্যাণমুখী নীতি। রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা বা ‘উন্নয়নের চাকা’ সচল রাখা জরুরি, তবে সেই চাকার গতিতে যেন সাধারণ নাগরিকের আইনি অধিকার ও জীবনযাত্রা পিষ্ট না হয়—এটিই যেকোনো সুশাসনের মূল নীতি। সাবেক অভিজ্ঞ আমলা শামসুল আলমের সাম্প্রতিক কলামে বাংলাদেশ সরকারের কিছু প্রশাসনিক, আইনি ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবনার পাশাপাশি নাগরিক জীবনের বাস্তবতার ওপর আলো ফেলা হয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) স্থলে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (SRB) গঠনের প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি একটি বহুল আলোচিত বিষয়।
অর্থবছরকে বিদ্যমান ১ জুলাই – ৩০ জুন থেকে পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল – ৩১ মার্চ করার প্রস্তাবটি বাংলাদেশের বাস্তবতায় অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ‘হকার ম্যানেজমেন্ট পলিসি ২০২৬’ ফুটপাতকে বিশৃঙ্খলামুক্ত করার লক্ষ্যে প্রণীত হলেও এর মানবিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দিকটি অবহেলা করার সুযোগ নেই।
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ৫০ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক রেল চালু এবং কেবল নারীদের জন্য পরিচালিত ‘পিংক বাস’ সার্ভিস চালু করার উদ্যোগগুলো আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশ।
অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে দেশীয় কূপ খনন কর্মসূচির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাম্প্রতিক উত্তেজনার আঁচ দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
“রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাগজে বা ফাইলে নয়; মেলাতে হয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।”
আমাদের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোতে পরিকল্পনার আধিক্য থাকলেও প্রধান সংকট তৈরি হয় বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির অভাব থেকে। বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারের নীতি-নির্ধারকদের মনে রাখতে হবে—আইন ও প্রশাসন মানুষের সার্বিক মুক্তির জন্য, নাগরিককে সংকুচিত করার জন্য নয়।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির উত্তাপ থেকে শুরু করে দেশের ফুটপাত কিংবা বাসের ট্রাফিক—সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন প্রান্তিক নাগরিক। রাষ্ট্রের চাকা অবশ্যই ঘুরবে, তবে তার চালিকাশক্তি হতে হবে আইনি ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধ।