বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
Title :
রাষ্ট্রের চাকা ঘুরুক, কিন্তু মানুষ যেন তার নিচে না পড়ে ঢাকায় সব বদলে গেলেও নাবিস্কো মোড়ের বিস্কুটের সেই ঘ্রাণটা আজও বদলায়নি তেজগাঁওয়ের শিল্প-ঐতিহ্য, নাগরিক স্মৃতি ও একটি পরিচিত মোড়ের গল্প শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে অনিশ্চিত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নারী চালক-কন্ডাক্টর দিয়ে চলবেআজ চালু হচ্ছে ‘পিংক বাস’, যেসব রুটে মিলবে সেবা মামলা জট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ১২ কার্যদিবসে হাইকোর্টে ৬২ হাজার ৬৩৭ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি দুদক চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা র‍্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী এসআরবি চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়—বদলাবে কাঠামো, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আজই শেষ হতে পারে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে: আলবার্টার প্রিমিয়ার

রাষ্ট্রের চাকা ঘুরুক, কিন্তু মানুষ যেন তার নিচে না পড়ে

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

শামসুল আলম-এর ‘রাষ্ট্রের চাকা ঘুরুক, কিন্তু মানুষ যেন তার নিচে না পড়ে’ কলামটি সাম্প্রতিক বাংলাদেশে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও নগর ব্যবস্থাপনার সংস্কার এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকে কেন্দ্র করে লেখা একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পর্যবেক্ষণ।

​আদালত বার্তার নীতি ও সম্পাদকীয় ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, আইনি দৃষ্টিভঙ্গি, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিবন্ধটির একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও প্রচ্ছদ নিবন্ধ (Opinion/Editorial Focus) উপস্থাপন করা হলো:

​রাষ্ট্রের চাকা ঘুরুক, কিন্তু মানুষ যেন তার নিচে না পড়ে

মূল ভাবনা: শামসুল আলম (সাবেক সচিব ও সিনিয়র ব্যুরোক্রেট)

বিশেষ বিশ্লেষণ ও সম্পাদনা: আদালত বার্তা বিভাগ

​একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান শক্তি তার আইন, প্রতিষ্ঠান এবং জনকল্যাণমুখী নীতি। রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা বা ‘উন্নয়নের চাকা’ সচল রাখা জরুরি, তবে সেই চাকার গতিতে যেন সাধারণ নাগরিকের আইনি অধিকার ও জীবনযাত্রা পিষ্ট না হয়—এটিই যেকোনো সুশাসনের মূল নীতি। সাবেক অভিজ্ঞ আমলা শামসুল আলমের সাম্প্রতিক কলামে বাংলাদেশ সরকারের কিছু প্রশাসনিক, আইনি ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবনার পাশাপাশি নাগরিক জীবনের বাস্তবতার ওপর আলো ফেলা হয়েছে।

​ প্রতিষ্ঠানের খোলস পরিবর্তন বনাম জবাবদিহির আইনি ভিত্তি

​র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) স্থলে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (SRB) গঠনের প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি একটি বহুল আলোচিত বিষয়।

  • আইনি বিশ্লেষণ: মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে কেবল কোনো বিশেষ বাহিনীর নাম বা ইউনিফর্ম পরিবর্তন করাই যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার মৌলিক অধিকার রয়েছে।
  • আদালত বার্তার দৃষ্টিভঙ্গি: এসআরবি (SRB) যেন কেবল পূর্ববর্তী ব্যবস্থার নতুন মোড়ক না হয়, তার জন্য এর প্রশাসনিক কাঠামোয় কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক। বন্দুকের নলের শক্তি নয়, বরং আইনের সীমারেখা এবং বিচারবিভাগীয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই একটি বিশেষায়িত বাহিনী সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পায়।

​ঋতুভিত্তিক সংস্কার: আইনি ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ

​অর্থবছরকে বিদ্যমান ১ জুলাই – ৩০ জুন থেকে পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল – ৩১ মার্চ করার প্রস্তাবটি বাংলাদেশের বাস্তবতায় অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

  • উন্নয়ন ও বাজেট বাস্তবায়ন: বাংলাদেশে বর্ষাকালে উন্নয়নমূলক কাজের গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে জনগণের করের টাকার অপচয় ঘটে এবং অবকাঠামোগত দুর্ভোগ বাড়ে।
  • প্রশাসনিক কার্যকারিতা: প্রকৃতির ওপর আইনি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে প্রকৃতির নিয়মকে অর্থবছর ও বাজেট বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ পদক্ষেপ। বর্ষার আগেই নির্মাণকাজ শেষ করার আইনি তাগিদ থাকলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থনৈতিক অপচয় রোধ হবে।

​ জীবিকার অধিকার ও নগর শৃঙ্খলা: সংবিধানের আলোকে

​ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ‘হকার ম্যানেজমেন্ট পলিসি ২০২৬’ ফুটপাতকে বিশৃঙ্খলামুক্ত করার লক্ষ্যে প্রণীত হলেও এর মানবিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দিকটি অবহেলা করার সুযোগ নেই।

  • মৌলিক অধিকার: সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন দ্বারা আরোপিত শর্ত সাপেক্ষে যেকোনো পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের অধিকার নাগরিকের রয়েছে।
  • ভারসাম্য রক্ষা: আদালত বার্তা মনে করে, নগর শৃঙ্খলার নামে হকার উচ্ছেদ নয়, বরং সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন, নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসার সুযোগ এবং আইনি পুনর্বাসনের মাধ্যমেই ‘পথচারীর অধিকার’ ও ‘হকারের জীবিকা’—দুটির মধ্যে ইতিবাচক ভারসাম্য আনা সম্ভব।

​অবকাঠামো ও গণপরিবহন: নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা

​নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ৫০ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক রেল চালু এবং কেবল নারীদের জন্য পরিচালিত ‘পিংক বাস’ সার্ভিস চালু করার উদ্যোগগুলো আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশ।

  • বাস্তবায়নের দায়: পরিকল্পনার নথিপত্র এবং ফিতা কাটার আনুষ্ঠানিকতায় সাফল্য মাপা যায় না। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পগুলো যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর হয় এবং ছয় মাস বা এক বছর পর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থবির হয়ে না পড়ে, সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন।
  • নিরাপত্তা ও আইনি নিশ্চয়তা: গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা প্রদান কেবল একটি সামাজিক পরীক্ষা নয়, এটি রাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা।

​ শক্তি সুরক্ষা ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি

​অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে দেশীয় কূপ খনন কর্মসূচির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাম্প্রতিক উত্তেজনার আঁচ দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

  • ​দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শক্তি আইন (Energy Policy) না থাকলে আমদানিনির্ভরতা বাজেটে বড় আকারের ঘাটতি তৈরি করে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা থেকে দেশের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে স্বনির্ভর আইনি ও নীতিগত কাঠামো গঠন করা জরুরি।

“রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাগজে বা ফাইলে নয়; মেলাতে হয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।”

​আমাদের প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোতে পরিকল্পনার আধিক্য থাকলেও প্রধান সংকট তৈরি হয় বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির অভাব থেকে। বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারের নীতি-নির্ধারকদের মনে রাখতে হবে—আইন ও প্রশাসন মানুষের সার্বিক মুক্তির জন্য, নাগরিককে সংকুচিত করার জন্য নয়।

​আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির উত্তাপ থেকে শুরু করে দেশের ফুটপাত কিংবা বাসের ট্রাফিক—সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন প্রান্তিক নাগরিক। রাষ্ট্রের চাকা অবশ্যই ঘুরবে, তবে তার চালিকাশক্তি হতে হবে আইনি ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধ।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট