
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আসামির বিনা বেতনে চাকরি ও পূর্বশত্রুতার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
আদালত বার্তা প্রতিবেদক, কুমিল্লা:২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য। জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের একজন ঘটনার মাত্র ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল। এছাড়া, ড. নাহিদা বেগম সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালিয়েছিলেন, তার প্রতিশোধ নিতেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না—এমন সন্দেহও জোরালো হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে কুবি শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা।
মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার শীলা বলেন, “রোববার রাতে ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে কিছু চাঞ্চল্যকর বিষয় জানিয়েছেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে ফাহাদ নামের কিশোরটি ঘটনার মাত্র ১০ দিন আগে ম্যাডামের স্বামীর অফিসে বিনা বেতনে কাজ শুরু করে। এছাড়া, ম্যাডাম যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে দুজন বর্তমান প্রধান আসামি তুহিনের গ্যাংয়ের সদস্য ছিল বলে জানা গেছে।”
তদন্ত ও প্রকৃত বয়স প্রমাণের দাবি
পূর্বশত্রুতা বা প্রতিশোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন নিহত অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। একইসঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে যারা নিজেদের অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করছে, ডাক্তারি বা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত বয়স প্রমাণের অনুরোধ করেছেন তিনি। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের উপযুক্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান এই শিক্ষিকা।
মোবাইল ছিনতাইয়ের কথা বলছে পুলিশ
এর আগে, রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— মামলার প্রধান আসামি কুমিল্লা সিটি কলেজের ড্রপআউট শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), কোতোয়ালির কালিবাজার এলাকার মো. কামরুল হাসান এবং দৌলতপুর আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়াম (১৯)।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে প্রধান আসামি তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে যে, অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই সে এই খুনের পরিকল্পনা করে। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে এবং ফাহাদের তথ্যে কামরুলসহ অপর আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে মোবাইল ছিনতাইয়ের আড়ালে পূর্বশত্রুতার কোনো ক্ষোভ লুকিয়ে ছিল কি না, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে মামলার মোড় সেদিকেই গড়ায় কি না, তা এখন তদন্ত সাপেক্ষ বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।