শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
Title :
চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই সাংবাদিকতা কি ‘মামার বাড়ির মোয়া’? সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন: নিরাপত্তা যাচাই, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় অনুসন্ধান? সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মালামাল ক্রোক ও মামলা: ডিএসসিসি প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করছেন এমপি মিষ্টি, প্রত্যাহার পুলিশ কর্মকর্তা অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযানের পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা

ঢাকা, ৩ অক্টোবর ২০২৬

​সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক কঠোর ও যুগান্তকারী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানো এবং প্রভাবমুক্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অবস্থান যে অত্যন্ত সুদৃঢ়, তা এই পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে। চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এটি সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র বাস্তব প্রতিফলন।

​শুদ্ধি অভিযান ও দলে কড়া বার্তা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অপরাধীদের একমাত্র স্থান হবে কারাগার—এই নীতির ভিত্তিতেই দেশজুড়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত চলমান। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগের কারণে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। জানা যায়, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় ওই কমিটির কয়েকজন নেতার ইন্ধন ছিল।

​এছাড়াও, চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে দল। বৃহস্পতিবার রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার সামনে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের দায়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ইসমাইল হোসেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র—সব পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে, অপকর্মে জড়ালে সরকার ও দল কাউকেই ছাড় দেবে না।

​প্রশাসনের জিরো টলারেন্স ও আন্ডারওয়ার্ল্ডে আতঙ্ক

সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাং ও অপরাধ চক্রগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী আদালত বার্তাকে বলেন, “অপরাধী যেই হোক এবং যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কে কোন রাজনৈতিক দলে বিশ্বাসী তা বিবেচনায় না নিয়ে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”

​স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদও দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, অপরাধীদের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তায় অভিযান আরও জোরদার করা হবে। উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, শীর্ষ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট বার্তা পাওয়ায় অপরাধীরা এখন আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে।

​রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনের শাসন

তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ এই সিদ্ধান্তকে ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “যারা সরকারের নাম ভাঙিয়ে ক্ষতি করছে, তাদের জন্য এটি বড় সতর্কবার্তা। কারও ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষা বা চাঁদাবাজির দায়ভার সরকার নেবে না।” জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও জোর দিয়ে বলেছেন, দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না।

​অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হকের মতে, রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও দলীয় পরিচয়ের আড়ালে দায়মুক্তি পাওয়ার সংস্কৃতি অপরাধ দমনের প্রধান বাধা। বর্তমান সরকার নিজ দলের প্রভাবশালী নেতা বা সংসদ সদস্যকে আইনের মুখোমুখি করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা শুধু সন্ত্রাসীদের শিকড়ই দুর্বল করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক অপরাধের হার কমিয়ে আনবে।

​ফিরে আসছে স্বস্তি ও আস্থা

বিএনপির শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নীতিতেই হাঁটছেন। জিয়াউর রহমান যেমন অপরাধীদের বলতেন—‘হয় ভালো হয়ে যাও, না হয় জেলখানায় বা বিদেশে চলে যাও’, ঠিক তেমনি বর্তমান সরকারও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কাউকেই বরদাশত করছে না।

​সরকারের এই ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক কারণে অপরাধীদের আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না—এই বিশ্বাস প্রশাসনে নতুন কাজের গতি ও সাহস এনে দিয়েছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি এবং আইনের শাসনের প্রতি গভীর আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট