
ডিজিটালাইজেশন ও আইনজীবী কল্যাণে ঢাকা ট্যাক্সেস বার: ওকালতনামায় কিউআর কোড সংযোজন, চিকিৎসা সুবিধা ও স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্নপূরণ
আদালত বার্তা ডেস্ক:৩০ অক্টোবর ২০২৬। 
আইনজীবী কল্যাণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন। জালিয়াতি ও ভুয়া আইনজীবীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ওকালতনামায় আধুনিক ‘কিউআর কোড’ (QR Code) সংযোজন, সদস্যদের চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়ের চুক্তি বাস্তবায়ন এবং বারের নিজস্ব জমি বরাদ্দের উদ্যোগে সংগঠনটিতে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে।
ওকালতনামায় কিউআর কোড ও তাৎক্ষণিক এসএমএস সেবা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট দফতরে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা এবং ভুয়া প্রতিনিধিদের প্রতিরোধে ওকালতনামায় যুক্ত করা হয়েছে কিউআর কোড প্রযুক্তি। এখন থেকে ওকালতনামায় থাকা কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট প্রকৃত আইনজীবীর ছবিসহ পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে। একই সাথে একজন আইনজীবী কয়টি ওকালতনামা সংগ্রহ করছেন, তা নিশ্চিত করতে তাঁর নিবন্ধিত মুঠোফোনে চলে যাচ্ছে তাৎক্ষণিক মেসেজ বা নোটিফিকেশন। এ ডিজিটাল সুরক্ষা বলয়ের কারণে কোনো অপেশাদার বা অনিবন্ধিত ব্যক্তি আইনজীবীদের নাম ব্যবহার করে জালিয়াতির সুযোগ পাবেন না।
চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়: ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চুক্তির বাস্তবায়ন
আইনজীবী ও তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সম্পাদিত এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. আবু নাসের মজুমদার (মাজবাহ্)-এর মেয়াদে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের এই চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির আওতায় ঢাকা ট্যাক্সেস বারের সদস্য, কর্মরত স্টাফ এবং তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারবর্গ (পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান) নির্ধারিত হাসপাতালসমূহে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড় পাবেন। এর মধ্যে প্যাথলজিক্যাল ও ল্যাবরেটরি টেস্টে ৪০% এবং রেডিওলজি ও ইমেজিং টেস্টে ৩৫% পর্যন্ত ছাড়ের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। মতিঝিল, কাকরাইল, মিরপুর, নয়াপল্টন ও মুগদাসহ নির্ধারিত শাখাগুলোতে এই সুবিধা কার্যকর রয়েছে।
স্থায়ী জমির উদ্যোগ ও বর্তমান নেতৃত্বের গতিশীলতা
২০২৬–২০২৭ মেয়াদে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জনাব আশরাফ এইচ. খানের নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘোষিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে চলেছে। বিশেষ করে ঢাকা ট্যাক্সেস বারের দীর্ঘদিনের দাবি—সংগঠনের নিজস্ব জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়াটি এখন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সাবেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বর্তমান নেতৃত্বের যৌথ প্রচেষ্টায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বারের জন্য নিজস্ব স্থান বরাদ্দের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ট্যাক্সেস বারের ইতিহাসে তা একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার সুরক্ষায় ঢাকা ট্যাক্সেস বারের এই ধারাবাহিক কার্যক্রম বিচার ও রাজস্ব অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সাধারণ সদস্যদের প্রত্যাশা, বারের এই ইতিবাচক পরিবর্তন পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করবে।