সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
Title :
সনদ সমর্পণ না করে অন্য পেশা ও বাণিজ্যে যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট ২০২৭ সালের রমজান, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা অবকাশ শেষে সুপ্রিম কোর্টে শুরু বিচারিক কার্যক্রম চায়ের আমন্ত্রণে সাংবিধানিক পদ থেকে পদত্যাগ: সাংবিধানিক রক্ষাকবচ কি কেবলই কাগুজে সুরক্ষা? পাঁচ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিস-আদালত সংবিধান সংশোধন কমিটির নবম বৈঠক: ‘জুলাই সনদ’ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় জোর ধর্মীয় পরিচয় নয়, অপরাধের বিচারই হোক—ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্ন  অবকাশের পর খুলছে সুপ্রিম কোর্ট: কাল আপিল বিভাগের ১ নম্বর কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ, থাকছে প্রথাগত সৌজন্য সাক্ষাৎ আগামীকাল ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের অনুষ্ঠানে বিচারপতি-আইনজীবীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার নিজ ফ্ল্যাটে গলা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত

সনদ সমর্পণ না করে অন্য পেশা ও বাণিজ্যে যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

সনদ সমর্পণ না করে অন্য পেশা ও বাণিজ্যে যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

​আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা:২৬ অক্টোবর ২০২৬

আইনজীবী সনদ স্থগিত বা সমর্পণ না করে অন্য লাভজনক পেশা, চাকরি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।

​রিট আবেদনে বলা হয়েছে, আইন পেশা একটি পূর্ণকালীন ও মহৎ পেশা। কিন্তু বর্তমানে বিপুল সংখ্যক তালিকাভুক্ত আইনজীবী বার কাউন্সিলের নিয়ম লঙ্ঘন করে ওকালতির লাইসেন্স বহাল রেখেই বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্যান্য লাভজনক কর্মে সক্রিয় রয়েছেন। এতে পেশাগত মর্যাদা ও সততা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং তরুণ ও পূর্ণকালীন প্র্যাকটিসিং আইনজীবীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর আগে বার কাউন্সিলে এ সংক্রান্ত আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে।

​আইনি ভিত্তি ও রিটের মূল যুক্তি

​রিট আবেদনে দেশে প্রচলিত আইন, বার কাউন্সিলের বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক নজির তুলে ধরা হয়েছে:​বাংলাদেশ বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২: The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Rules, 1972-এর ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন আইনজীবী তালিকাভুক্ত থাকা অবস্থায় অন্য কোনো লাভজনক পেশা, ব্যবসা কিংবা নিয়মিত চাকুরিতে নিয়োজিত হতে পারেন না। যদি কেউ অন্য কোনো পেশা বা বাণিজ্যে জড়াতে চান, তবে তাকে অবশ্যই তার ওকালতি সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত বা সমর্পণ (Surrender/Suspend) করতে হবে। অন্যথায় তা স্পষ্টতই ‘পেশাগত অসদাচরণ’ (Professional Misconduct) হিসেবে গণ্য।

​ক্যাননস অব প্রফেশনাল কনডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট: পেশাগত আচরণবিধির (Canons of Professional Conduct) অধ্যায়-৪-এর রুল ৮ অনুযায়ী, দ্বৈত পেশা ধারণ করা ওকালতি পেশার নীতি ও শৃঙ্খলার সরাসরি পরিপন্থী।

  1. ​সাংবিধানিক বিধানের ব্যত্যয়: রিটে উল্লেখ করা হয়, কার্যকর আইন প্রয়োগ না থাকায় এবং একাধারে দুটি পেশা বা বাণিজ্যিক সুযোগ ভোগ করায় সংবিধানের ২০(১) অনুচ্ছেদ (কর্মের অধিকার ও মর্যাদা), ৩১ অনুচ্ছেদ (আইনের সুরক্ষা লাভ) এবং ৪০ অনুচ্ছেদের (পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা) মৌলিক নীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে।
  2. ​আন্তর্জাতিক নজির: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নজিরও আবেদনে উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সুপরিচিত ডা. হানারাজ এল. চুলানি বনাম বার কাউন্সিল অব মহারাষ্ট্র অ্যান্ড গোয়া (AIR 1996 SC 1708) মামলার রায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয় ওকালতি একটি পূর্ণকালীন দায়িত্ব এবং একজন ব্যক্তি একই সাথে ব্যবসা বা অন্য পেশার সাথে যুক্ত থাকতে পারেন না। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (BSB) ও আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশনের (ABA) আন্তর্জাতিক আচরণবিধির উদাহরণও তুলে ধরা হয়।

​রিটে যেসব প্রতিকার চাওয়া হয়েছে

  • ​গণবিজ্ঞপ্তি জারি: জাতীয় দৈনিকে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অন্য পেশায় যুক্ত নন-প্র্যাকটিসিং আইনজীবীদের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সনদ বার কাউন্সিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া।
  • ​তদন্ত ও তালিকা প্রণয়ন: কোনো আইনজীবী সনদ গোপন রেখে দ্বৈত পেশায় রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ মনিটরিং সেল বা কমিটি গঠন।
  • ​আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ সমর্পণ না করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাদের সদস্যপদ ও ওকালতি লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিলসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।

​ পেশাগত শুদ্ধি অভিযানের তাগিদ

​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বার কাউন্সিলে সদস্যপদ থাকা আইনজীবীদের একটি বড় অংশ কার্যত আদালতে উপস্থিত থাকেন না; অথচ নির্বাচন বা অন্যান্য সুবিধাদি নেওয়ার সময় তাদের সক্রিয় দেখা যায়। অপরদিকে অনেকেই কর্পোরেট চাকরি, কন্ট্রাক্টরি বা শিক্ষকতার মতো ভিন্ন পেশায় যুক্ত থেকেও গাড়িতে ও ভিজিটিং কার্ডে আইনজীবী পরিচয় ব্যবহার করেন।

​উচ্চ আদালতের এ রিটটি নিষ্পত্তির মাধ্যমে যদি বার কাউন্সিল একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে পারে, তবে তা বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা, আদালত অঙ্গনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সত্যিকারের তরুণ আইনজীবীদের অধিকার সুরক্ষায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট