
আদালত বার্তা ডেস্কঃ৮ নভেম্বর ২০২৬
সরকারি প্রশাসনের কাছে কোনো নাগরিকের করা আবেদন কারণ না জানিয়ে অনির্দিষ্টকাল ধরে ফেলে রাখা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, কোনো নাগরিক উপযুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে সিদ্ধান্ত চেয়ে আবেদন করলে যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে লিখিত ও কারণসম্বলিত আদেশের মাধ্যমে সেই আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো প্রশাসনের দায়িত্ব।
ব্যক্তিগত মালিকানাধীন একটি অব্যবহৃত পুকুর ভরাটের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার পর দীর্ঘদিনেও কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় করা রিটের রায়ে হাইকোর্ট এ পর্যবেক্ষণ দেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) রিটের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ৪ নভেম্বর বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ.এইচ.এম. মুশফিকুর রহমান তুহিন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মো. শাহজাহান সরদারসহ দুই ব্যক্তি তাদের মালিকানাধীন অব্যবহৃত পুকুর মাটি ও বালু দিয়ে ভরাটের অনুমতি চেয়ে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি নাটোরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন করেন।
তবে আবেদন করার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জেলা প্রশাসক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি এবং আবেদনকারীদেরও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
কর্তৃপক্ষের এমন দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তায় সংক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারীরা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, কোনো নাগরিক যখন উপযুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ে আবেদন করেন, তখন যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে লিখিত ও যুক্তিসঙ্গত কারণসম্বলিত আদেশের মাধ্যমে সেই আবেদন নিষ্পত্তি করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
আদালত বলেন, কোনো কারণ না জানিয়ে নাগরিকের আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখা সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা নাগরিকের সময়মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পাওয়ার বৈধ প্রত্যাশাকেও ক্ষুণ্ন করে।
তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন, পুকুরটি ভরাট করার অনুমতি আবেদনকারীরা পাবেন কি না—সে বিষয়ে আদালত কোনো মতামত দেননি।
এ বিষয়ে আদালত বলেন, প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে আবেদনটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের স্বাধীন ও আইনানুগ সিদ্ধান্তের এখতিয়ারভুক্ত।
রায়ে হাইকোর্ট নাটোরের ডেপুটি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আবেদনটি বিবেচনা ও নিষ্পত্তি করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আবেদনটির বিষয়ে একটি যুক্তিসঙ্গত ও লিখিত আদেশ প্রদান করে তা আবেদনকারীদের জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই রায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নাগরিকের ন্যায্য প্রত্যাশার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করল বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন।