
দুর্নীতি উন্নয়নের পথে অন্তরায়
বিশেষ প্রতিবেদক,আদালত বার্তাঃ৫ মে ২০২৬
বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নযাত্রা গত এক দশকে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করলেও, সেই অগ্রযাত্রার সামনে দুটি বড় বাধা হিসেবে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে—দুর্নীতি এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি। এই দুইটি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাধি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
দুর্নীতি: উন্নয়নের ভিত নড়বড়ে করে
দুর্নীতি বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো সমস্যা নয়; তবে এর ব্যাপ্তি ও প্রভাব এখন অনেক বেশি গভীর। সরকারি ক্রয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রায়ই শিরোনাম হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন—
উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাজের নিম্নমানের অন্যতম কারণ দুর্নীতি
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার বড় কারণ প্রশাসনিক অনিয়ম
ব্যাংক খাতে ঋণ কেলেঙ্কারি অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে
পরিসংখ্যানের ভাষায়:
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশ এখনও মধ্যম বা নিম্ন অবস্থানে অবস্থান করছে, যা সুশাসনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
ধর্মীয় গোঁড়ামি: অগ্রগতির চিন্তায় বাধা
ধর্মীয় মূল্যবোধ সমাজের নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলে—কিন্তু যখন তা গোঁড়ামিতে রূপ নেয়, তখন তা হয়ে ওঠে অগ্রগতির অন্তরায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পথে বাধা সৃষ্টি করে
নারী শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে
ভিন্নমত ও সংস্কৃতির প্রতি অসহিষ্ণুতা বাড়ায়
ফলে একটি সহনশীল, বহুত্ববাদী সমাজ গঠনের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।
দ্বৈত সংকটের সম্মিলিত প্রভাব
দুর্নীতি ও ধর্মীয় গোঁড়ামি যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন তার প্রভাব আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখা
গোঁড়ামিকে ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করা
আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়া
এই প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।
সমালোচনা ও করণীয়
সমাজবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এই সংকট উত্তরণে প্রয়োজন—
দুর্নীতিবিরোধী শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা প্রসার
আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা
গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা
দুর্নীতি ও ধর্মীয় গোঁড়ামি—এই দুইটি সমস্যা আলাদা মনে হলেও, বাস্তবে তারা একে অপরকে শক্তিশালী করে। উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে এই দুই অন্তরায় দূর করা অপরিহার্য। অন্যথায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও তা হবে ভঙ্গুর এবং অসম।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে—আমরা কত দ্রুত এই দ্বৈত সংকট মোকাবিলা করতে পারি তার ওপর।