বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
Title :
আইনজীবীর মাথায় পেপার ওয়েট ছুড়ে বিচারিক ক্ষমতা হারালেন সেই বিচারক যে কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে রাষ্ট্রপতিকে, জানা গেল কারণ এক বছরে ২৫ লাখে মামলা কমানোর চেষ্টা সরকারের: আইনমন্ত্রী আলোচনায় হাসিনার দেশে ফেরা চলছে নানা গুঞ্জন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন না, জানালো ইসি  সাংবাদিকতার পেশায় আইনি জ্ঞান ও পেশাগত দায়বদ্ধতা: সত্য অনুসন্ধানের অপরিহার্য ভিত্তি এমপি নজরুল ইসলামের আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে, অবশেষে যে সিদ্ধান্ত নিলো জামায়াত আইনজীবীদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রধান বিচারপতির কঠোর উদ্বেগ বিচারকের সই-সিল জাল : আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: তারেক রহমান

ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে গণতন্ত্রের চর্চা ও প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০২৩
  • ৩৯৬ বার পড়া হয়েছে

ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে গণতন্ত্রের চর্চা ও প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা :১৬ জুন ২০২৩।
বিচারালয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলে তবেই দেশে সঠিক গণতন্ত্র চর্চা ও প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিদায়ী বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান।
তিনি বলেন, সমাজে কোনো কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণি এ সত্যকে মেনে না নিয়ে বিচার বিভাগেও বিচারকাজে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টায় লিপ্ত। যা দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য বাধা। কোনো কোনো মামলায় বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগে বিচারিক কর্মজীবনের শেষ দিনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান একাত্তরে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ এলাকায় সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এমএসএস ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের ১৯৮৩ সালে জেলা আদালত এবং ১৯৮৭ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
পরবর্তীকালে ২০০৯ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বিভাগে অস্থায়ী বিচাপতি হিসেবে নিয়োগ এবং দুই বছর পর স্থায়ী হন। ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর তিনি আপিল বিভাগে নিয়োগ পান। ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তার শেষ কর্মদিবস হবে আগামী ৩০ জুন। কিন্তু তিনি হজে যাওয়ার কারণে ১৫ জুন ছিল তার শেষ কর্মদিবস।
বিদায়ী বিচারপতি নূরুজ্জামান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি স্বাধীনতার জন্য দেশবাসীর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ প্রত্যক্ষ করেছি, নিজেও সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং আমাদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্ব সেই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি নিজেই অনুভব করেছি। বিচার বিভাগে কাজের মাধ্যমে সেই লড়াই চালিয়ে যাওয়া আমার সৌভাগ্যের বিষয়, যেখানে আমি আইনের সামনে ন্যায়, ন্যায্যতা এবং সমতার নীতিগুলোকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করেছি।
ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রচর্চার বিষয়ে এ বিচারপতি বলেন, আমি আমার আইনজীবী ও বিচারিক অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছি, বিচারালয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেই দেশে সঠিক গণতন্ত্রচর্চা ও প্রতিষ্ঠা সম্ভব। কিন্তু সমাজে কোনো কোনো ব্যক্তি বা শ্ৰেণি এ সত্যকে মেনে না নিয়ে বিচার বিভাগেও বিচারকাজে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টায় লিপ্ত। যা দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য বাধা হয়ে ওঠে। তবে এ কথাও সত্য যে, বিচারকদেরও সত্য উপলব্ধি করে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে কাজ করতে হবে।
আইনজীবী সমিতি নিয়ে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মো. নূরুজ্জামান বলেন, সবাই মিলে আইনজীবী সমিতিগুলোর পবিত্রতা রক্ষা করে বিচারাঙ্গনকে আইনচর্চার চারণভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই আইন অঙ্গন ও বিচারালয় শক্তিশালী ও পবিত্র হবে।
তিনি বলেন, বিচারালয়ে আইনজীবীরা যদি যোগ্য ও সৎ হন, তবে বিচারক ও আদালতের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা অসৎ থাকতে পারবেন না ।
বিদায়বেলায় তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনের শাসন ও সংবিধানের সমুন্নত ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রক্ষা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews