

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন,আদালত বার্তা ডেস্কঃ৪ নভেম্বর ২০২৬
সমন জারিতে ঘুস দাবি ও বরখাস্তের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল বিচার প্রশাসনের ভেতরকার চিত্র; কাঠামোগত সংস্কারের দাবি বিচারপ্রার্থীদের
সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল আদালত প্রাঙ্গণে পা রাখলেই পদে পদে ফাইল আটকে থাকার অভিযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নেজারত বিভাগের জারিকারক এস এম শফিউর রহমানের প্রকাশ্যে ঘুস দাবি এবং ফলশ্রুতিতে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাটি বিচার বিভাগের তৃণমূল স্তরের প্রশাসনিক চিত্রকে আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
দেওয়ানি মামলার সমন জারির মতো প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্যে অর্থ দাবি এবং তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করানোর অভিযোগ পুরো ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জারিকারক এস এম শফিউর রহমান এর আগেও চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। প্রশাসনিক ও আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগে তিনি পুনর্বহাল হন এবং পুনরায় একই ধরনের অনিয়মে জড়ান।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সাময়িক বরখাস্ত বা বদলি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। শাস্তির দৃষ্টান্তমূলক নজির না থাকায় অসাধু চক্র আদালত প্রাঙ্গণকে ব্যক্তিগত বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত করার সাহস পায়। নিম্ন আদালতের নেজারত শাখা, পেশকার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এমন ঘটনা ক্রমাগত পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—দেশের অধিকাংশ অধস্তন আদালতের বারান্দায় প্রতিদিন ভিড় জমান হাজারো বিচারপ্রার্থী। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়:
সংকটের মূল উৎস
আদালত বিশ্লেষক ও আইনজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অচলাবস্থার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ দায়ী:
উত্তরণের পথরেখা: পাঁচ দফা সংস্কার প্রস্তাব
বিচার ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা আমূল সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন:
রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি টিকিয়ে রাখতে বিচার বিভাগের সততা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করা অপরিহার্য। গুটি কয়েক অসাধু কর্মচারীর দুর্নীতির দায় পুরো বিচার বিভাগ বহন করতে পারে না। এখনই সময় কঠোর শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচারালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার।