1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে এসআই ইকবালের আবেগঘন সাক্ষ্য, কাঁদলেন বিচারালয়ের সবাই - আদালত বার্তা
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে এসআই ইকবালের আবেগঘন সাক্ষ্য, কাঁদলেন বিচারালয়ের সবাই বাঁধা-নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জনসমুদ্রে শেষ বিদায়: ভোলার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদকে ঘিরে আবেগঘন দৃশ্য বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষু যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর, পাহাড় কেটে রাস্তা বিচ্ছিন্ন, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা, ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০/৩০০ সন্ত্রাসী আসামী। বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু, উড়ে গেছে শরীর সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি অদৃশ্য এক অন্ধকার জালও বিস্তার করেছে। ১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের আসামী পক্ষে আইনজীবী ছাড়া বাংলাদেশের আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা যায় না। সাইবার সুরক্ষা আইনে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় সংগীত অবমাননাকারীদের দায়মুক্তি কুর্মিটোলা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি

রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে এসআই ইকবালের আবেগঘন সাক্ষ্য, কাঁদলেন বিচারালয়ের সবাই

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে এসআই ইকবালের আবেগঘন সাক্ষ্য, কাঁদলেন বিচারালয়ের সবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক,আদালত বার্তাঃ২ মে ২০২৬

বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন মামলার অন্যতম প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন। তাঁর বর্ণনায় উঠে আসে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার চিত্র, যা উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়।
আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে এসআই ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি নিজ হাতে শিশুটি রামিসার নিথর দেহ উদ্ধার করেন এবং প্রাথমিক জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা জীবনে অনেক দেখেছি, কিন্তু রামিসার ঘটনা আমাকে ভেঙে দিয়েছে। ওর নিষ্পাপ মুখটা ভুলতে পারিনি।”
সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কিছু সময়ের জন্য আদালতের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বিচারকসহ আদালতে উপস্থিত আইনজীবী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ নিঃশব্দে আবেগ ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
সাক্ষ্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ইকবাল হোসেন বলেন,
“ভাই, আমি রামিসাকে দেখার পর ১০ দিন ঠিকমতো ভাত খেতে পারিনি। ওর মতো আমারও একটি মেয়ে আছে। আমি একজন বাবা—ওর মুখটা ভুলতে পারিনি। এত কষ্ট জীবনে খুব কমই পেয়েছি।”
 রামিসা হত্যা মামলাটি শুরু থেকেই জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনগণ দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। তদন্তে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয় এবং একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, এসআই ইকবালের সাক্ষ্য মামলার প্রমাণ কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে ঘটনাস্থলের বর্ণনা, আলামত সংগ্রহ ও পরিস্থিতির বিশদ বিবরণ আদালতে উপস্থাপন হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
এদিকে, রামিসার পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও ন্যায়বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তারা আশা করছেন, আদালতের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং অপরাধীরা যথাযথ শাস্তি পাবে। আজ রামিসা হত্যা মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষী শেষে  আদালত ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি  পরীক্ষার জন্য আগামীকাল  দিন ধার্য করেন । 
রামিসা হত্যা মামলার শুনানিতে উঠে আসা প্রতিটি সাক্ষ্য যেন সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে—শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কতটা প্রস্তুত? আদালতের এই আবেগঘন মুহূর্ত শুধু একটি মামলার নয়, মানবিক বিবেকেরও এক কঠিন পরীক্ষা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট