
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি অদৃশ্য এক অন্ধকার জালও বিস্তার করেছে।
এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক, সম্পাদক, আদালত বার্তাঃ২৫ মে ২০২৬।
ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও গুপ্ত ধোঁকাবাজির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি অদৃশ্য এক অন্ধকার জালও বিস্তার করেছে—যার নাম ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও গোপন প্রতারণা। আজকের সমাজে সত্য যেন ক্রমেই আড়াল হয়ে যাচ্ছে, আর মিথ্যার কারিগররা নীরবে, নিঃশব্দে তাদের জাল বিস্তার করে চলেছে।
একটি গুজব—যার কোনো ভিত্তি নেই, কোনো প্রমাণ নেই—তবুও তা মানুষের মনে ভয়, সন্দেহ ও বিভ্রান্তির বীজ বপন করে। এই গুজবই ধীরে ধীরে রূপ নেয় অপপ্রচারে, আর অপপ্রচারই জন্ম দেয় অবিশ্বাসের। একসময় দেখা যায়, মানুষ মানুষকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না; সমাজে নেমে আসে এক ধরনের নীরব ভাঙন।
ষড়যন্ত্রকারীরা কখনো সামনে আসে না। তারা থাকে পর্দার আড়ালে, অচেনা পরিচয়ে, ভুয়া তথ্যের ছদ্মবেশে। তারা জানে, সরাসরি আঘাতের চেয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই তারা বেছে নেয় ছবি বিকৃতি, মিথ্যা সংবাদ, আংশিক সত্য এবং আবেগকে উসকে দেওয়ার কৌশল। তাদের লক্ষ্য একটাই—সমাজকে বিভক্ত করা, মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া।
এই নীরব আক্রমণের সবচেয়ে করুণ দিক হলো—আমরা অনেক সময় নিজেরাই এর বাহক হয়ে উঠি। যাচাই না করেই কোনো খবর শেয়ার করি, না ভেবেই কারও বিরুদ্ধে মন্তব্য করি। অজান্তেই আমরা মিথ্যার স্রোতে ভেসে যাই এবং সত্যকে আরও দূরে ঠেলে দিই।
ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কেবল ব্যক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি জাতির বিশ্বাস, ঐক্য ও স্থিতিশীলতা। ধীরে ধীরে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে অনিশ্চয়তা, ভয় এবং অবিশ্বাসের অন্ধকার।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো সচেতনতা ও সতর্কতা।
আমাদের শিখতে হবে—
সত্য যাচাই করতে,
গুজব থেকে দূরে থাকতে,
এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে।
প্রত্যেক নাগরিক যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবে এই অন্ধকার
কে প্রতিহত করা সম্ভব। কারণ সত্য হয়তো ধীরে চলে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যই বিজয়ী হয়।
সতর্ক থাকুন, সচেতন হোন—দেশকে রক্ষা করুন।