মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন
Title :
বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে করদাতাদের সতর্ক করে এনবিআরের চার নির্দেশনা  সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন গণঅভ্যুত্থান: আসামি পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চেয়ে রিট আবেদন পরীক্ষা নাকি অগ্নিপরীক্ষা—এইচএসসি প্রশ্নপত্রে বিতর্ক বরিশালে সংক্ষিপ্ত বিচারে বাড়ছে জনআস্থা: মাত্র ১ মাসে ১৬৭ মামলায় ৪৫৭ অপরাধীর কারাদণ্ড। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুনরুত্থান: প্রতিবাদের ভাষায় নতুন জাগরণ ইতিহাসের পৃষ্ঠায় অমর নেতৃত্ব: খামেনি–খোমিনীর উত্তরাধিকার ও জনসমর্থনের প্রতিচ্ছবি এআই-নির্ভর ভুয়া ভিডিও ও ফেক নিউজ রুখতে আইন সংশোধনের দাবি— অ্যাটর্নি জেনারেল ঢাকা বিমানবন্দরের লাগেজ হয়রানির অবসান? থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে জাপানি কনসোর্টিয়াম

বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি: বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক

এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক, সম্পাদক আদালত বার্তাঃ৭ জুলাই ২০২৬।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—এই দুটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী “বিচার বিভাগ আইন খুবই ফরজ”—অর্থাৎ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতায় প্রশ্ন থেকে যায়: সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা সফল? এবং বিচার বিভাগ কতটা স্বাধীনভাবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারছে?
প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নে দেখা যায় যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধ—বিশেষ করে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং সাইবার অপরাধ—নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যেমন প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বিশেষ অভিযান এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি। তবে সমালোচকরা মনে করেন, এসব পদক্ষেপ অনেক সময় টেকসই সমাধান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ অপরাধ দমনের পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমে বিলম্ব, তদন্তের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ৯৪(৪) অনুচ্ছেদ বিচারকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা প্রদান করে। তবুও বাস্তবতায় বিচার বিভাগ কতটা কার্যকরভাবে স্বাধীন, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া, পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও নিম্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া কিংবা তদন্ত সংস্থার ওপর প্রভাবের অভিযোগ বিচার বিভাগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, ন্যায়বিচারের অন্যতম শর্ত হলো “fair trial” বা ন্যায্য বিচার, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ—বিশেষ করে ICCPR-এর ১৪(১) অনুচ্ছেদে স্বীকৃত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই নীতির প্রতিফলন ঘটেছে, কিন্তু বাস্তব প্রয়োগে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। মামলার জট, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে দুর্বলতা এবং বিচারপ্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও উচ্চপ্রোফাইল মামলাগুলোতে বিচার বিভাগের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী পক্ষ অভিযোগ করেছে যে বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার পক্ষ দাবি করেছে যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা এখনো চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। একইভাবে বিচার বিভাগের সাংবিধানিক স্বাধীনতা থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে তা আরও শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করা প্রয়োজন। একটি কার্যকর, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন—স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিচারিক সংস্কার, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কেবল একটি আইনি বিষয় নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি। তাই আইনশৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews