1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের - আদালত বার্তা
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু, উড়ে গেছে শরীর সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি অদৃশ্য এক অন্ধকার জালও বিস্তার করেছে। ১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের আসামী পক্ষে আইনজীবী ছাড়া বাংলাদেশের আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা যায় না। সাইবার সুরক্ষা আইনে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় সংগীত অবমাননাকারীদের দায়মুক্তি কুর্মিটোলা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি রেকর্ড অব রাইট (খতিয়ান) ও মালিকানা স্বত্ব: হাই কোর্টের যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত মেট্রো রেলের ভাড়ায় ২৫% ছাড়ের সিদ্ধান্ত, পাবেন যারা কিভাবে  আপনি কাঙ্ক্ষিত Bar-At-Law Degree.অর্জন করতে পারবেন?  ফুটপাতে হকারদের জায়গা বরাদ্দ কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে
  • ১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের
    বিশেষ প্রতিবেদন,আদালত বার্তাঃ২৫ মে ২০২৬
    দেশের প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হয়েও দীর্ঘ প্রতীক্ষা—বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
    ঢাকা, ২৫ মে — ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাত। রাজধানীর এক অভিজাত বাসভবনে ঘটে যায় দেশের অন্যতম আলোচিত এক নৃশংস ঘটনা। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের কন্যা, মাত্র ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার সময় তাকে উপর্যুপরি ২৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উঠে আসে।
    শাজনীন ঢাকার স্বনামধন্য স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। ঘটনার দিন বাড়িতে মেরামতের কাজে আসা মিস্ত্রি সাজ্জাদ হাসান এবং বাড়ির গৃহকর্মী শহীদসহ কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে বলে অভিযোগে বলা হয়।
    পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার কিছুদিন আগে মিস্ত্রি হাসান শাজনীনকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। বিষয়টি বাবা-মাকে জানানোর সুযোগ না পেলেও পরে জানাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই আশঙ্কাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। নিজেদের অপরাধ ফাঁস হওয়ার ভয়ে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করা হয়।
    ঘটনার দিন বাড়িতে অতিথি থাকার সুযোগে শাজনীনকে তার নিজ কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
    এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ায় ৫ জন আসামি খালাস পেয়ে যায়।
    অবশেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর, ২০১৭ সালে কেবলমাত্র একজন আসামি—গৃহকর্মী শহীদের ফাঁসি কার্যকর হয়। মূল অভিযুক্ত মিস্ত্রি হাসানসহ বাকি আসামিরা আইনের ফাঁক গলে মুক্তি পায়।
    এই মামলার প্রতিটি ধাপে উপস্থিত থেকে বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন শাজনীনের বাবা লতিফুর রহমান। তবুও বিচার পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় দুই দশক।শাজনীন হত্যা মামলা কেবল একটি পরিবার বা একটি ঘটনার সীমায় আবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
    প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হয়েও যেখানে বিচার পেতে লেগেছে ১৯ বছর, সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য বিচার প্রাপ্তি কতটা দুরূহ—এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তের দুর্বলতা, সাক্ষ্যপ্রমাণের ঘাটতি, এবং দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়াই এ ধরনের মামলার বিলম্বের অন্যতম কারণ।
    শাজনীন তাসনিম রহমানের হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই মামলা মনে করিয়ে দেয়—ন্যায়বিচার শুধু রায় নয়, বরং সময়মতো বিচার পাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
    বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন—এমনটাই মনে করছেন সচেতন সমাজ।
আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট