শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
Title :
কেরানীগঞ্জে যুব মহিলা লীগ নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার নিজ ফ্ল্যাটে গলা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত দীর্ঘ অবকাশ শেষে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরু ২৫ অক্টোবর বিজ্ঞ আইনজীবীদের জন্য শনিবার খোলা থাকবে অ্যাটর্নি-জেনারেলের কার্যালয় পাহাড়ের সৌন্দর্যের আড়ালে নিরাপত্তার নেপথ্য প্রহরা বর্ডার পার হওয়ার আগে অবশ্যই পোর্ট ট্যাক্স ও ভ্রমণ কর সঙ্গে রাখবেন সেনাপ্রধানের সেন্ট মার্টিন সফর ঘিরে প্রশ্ন, গভীর সমুদ্রে যাওয়ার খবরের স্বাধীন যাচাই হয়নি চীনা কোম্পানির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব: তিন দশকের ফাইলবন্দি খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পে নতুন গতি ফ্রান্সের অস্থিরতা: গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ কোথায় শেষ, নৈরাজ্য কোথায় শুরু? সৌরবিদ্যুৎ সুরক্ষায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি: চুরি ও নাশকতায় কারাদণ্ড-অর্থদণ্ড আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর মামলা: রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পেয়ে কারামুক্ত সাবেক এসআই আবজালুল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসির সময়সূচি জারি নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ২২২ বার পড়া হয়েছে
  • ১৯ বছরে বিচার: শাজনীন হত্যা মামলায় ৬ আসামির মধ্যে ফাঁসি কার্যকর মাত্র ১ জনের
    বিশেষ প্রতিবেদন,আদালত বার্তাঃ২৫ মে ২০২৬
    দেশের প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হয়েও দীর্ঘ প্রতীক্ষা—বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
    ঢাকা, ২৫ মে — ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাত। রাজধানীর এক অভিজাত বাসভবনে ঘটে যায় দেশের অন্যতম আলোচিত এক নৃশংস ঘটনা। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের কন্যা, মাত্র ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার সময় তাকে উপর্যুপরি ২৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উঠে আসে।
    শাজনীন ঢাকার স্বনামধন্য স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। ঘটনার দিন বাড়িতে মেরামতের কাজে আসা মিস্ত্রি সাজ্জাদ হাসান এবং বাড়ির গৃহকর্মী শহীদসহ কয়েকজন মিলে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে বলে অভিযোগে বলা হয়।
    পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার কিছুদিন আগে মিস্ত্রি হাসান শাজনীনকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। বিষয়টি বাবা-মাকে জানানোর সুযোগ না পেলেও পরে জানাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই আশঙ্কাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। নিজেদের অপরাধ ফাঁস হওয়ার ভয়ে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করা হয়।
    ঘটনার দিন বাড়িতে অতিথি থাকার সুযোগে শাজনীনকে তার নিজ কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
    এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০০৩ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ায় ৫ জন আসামি খালাস পেয়ে যায়।
    অবশেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর, ২০১৭ সালে কেবলমাত্র একজন আসামি—গৃহকর্মী শহীদের ফাঁসি কার্যকর হয়। মূল অভিযুক্ত মিস্ত্রি হাসানসহ বাকি আসামিরা আইনের ফাঁক গলে মুক্তি পায়।
    এই মামলার প্রতিটি ধাপে উপস্থিত থেকে বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন শাজনীনের বাবা লতিফুর রহমান। তবুও বিচার পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় দুই দশক।শাজনীন হত্যা মামলা কেবল একটি পরিবার বা একটি ঘটনার সীমায় আবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
    প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হয়েও যেখানে বিচার পেতে লেগেছে ১৯ বছর, সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য বিচার প্রাপ্তি কতটা দুরূহ—এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তের দুর্বলতা, সাক্ষ্যপ্রমাণের ঘাটতি, এবং দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়াই এ ধরনের মামলার বিলম্বের অন্যতম কারণ।
    শাজনীন তাসনিম রহমানের হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই মামলা মনে করিয়ে দেয়—ন্যায়বিচার শুধু রায় নয়, বরং সময়মতো বিচার পাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
    বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন—এমনটাই মনে করছেন সচেতন সমাজ।
আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট