শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
Title :
চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের ভুল সংশোধন সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা ও কার্য পদ্ধতি  ইনানীতে কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: শিশুসহ ৬ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু, দগ্ধ ৫ আদালতের দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার আদালত অবমাননার শামিল: এলাহাবাদ হাইকোর্ট সৌদিতে কথিত অপরাধে ত্বরিত ফাঁসি, নারী শ্রমিকদের ধর্ষণ ও হত্যার বেলায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি স্পষ্ট কারণ ছাড়া পক্ষ সংযোজনের আদেশ আইনসম্মত নয়: হাইকোর্ট ধর্ম অবমাননার অপবাদ ও ফেসবুক উসকানি: হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা কামিল পাস শামীমকে পেশার প্রতি ভালোবাসাই আইনজীবীর সবচেয়ে বড় শক্তি বয়স বাড়ে, শরীরের গতি কমে—কিন্তু শেখার আগ্রহ ও ন্যায়বোধ যেন থেমে না যায়।  কক্সবাজারে সন্তান হারানো নিউজিল্যান্ডের পরিবার ৫০ দিন পর ছাড়লো বাংলাদেশ: নৌযানডুবি ও ডাকাত হামলার দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বিদায় শেকৃবির গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা প্রতিবাদে ফের আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন।  দুজন স্থানীয় সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া তল্লাশি ও জব্দ বেআইনি: হাইকোর্ট

চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের ভুল সংশোধন সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা ও কার্য পদ্ধতি 

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

 চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের ভুল সংশোধন সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা ও কার্য পদ্ধতি 

নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ১৭ অক্টোবর ২০২৬

চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের ভুল সংশোধন সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা ও কার্য পদ্ধতি 

​১. সূত্র ও প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট

  • ​স্মারক নম্বর: ৩১.০০.০০০০.০৪২.৬৭.০৩১.১১ (অংশ-১)-৩৪৩
  • ​তারিখ: ২৯ জুলাই ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ (১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ)
  • ​প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ: আইন অধিশাখা-০১, ভূমি মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
  • ​বিষয়: চূড়ান্তভাবে মুদ্রিত ও প্রকাশিত খতিয়ানের (Record of Rights – RoR) করণিক ভুল (Clerical Mistake), প্রতারণামূলক লিখন (Fraudulent Entry) এবং যথার্থ ভুল (Bona fide Mistake) সংশোধন সংক্রান্ত পরিপত্র।

​প্রেক্ষাপট:

The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (SAT Act)-এর ধারা ১৪৪ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক জরিপ কার্যক্রম শেষে সর্বশেষ খতিয়ান চূড়ান্ত মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে উদ্ভূত করণিক ভুল এবং প্রতারণামূলক অন্তর্ভুক্তি দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে আইন ও বিধির আওতায় ক্ষমতা প্রদান করা হলেও মাঠ পর্যায়ে ধারণার অস্পষ্টতার কারণে কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট ধারণা ও কাজের সমরূপতা নিশ্চিত করতে এ পরিপত্র জারি করা হয়।

​২. সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিগত ভিত্তি

​১. SAT Act, 1950 এর ধারা ১৪৩: কালেক্টরের পক্ষে ক্ষমতা অনুযায়ী রাজস্ব অফিসার (সহকারী কমিশনার (ভূমি)) করণিক ভুল সংশোধন ও রেকর্ড হালনাগাদ করবেন।

২. SAT Act, 1950 এর ধারা ১৪৯(৪): ভূমি আপিল বোর্ড (Board of Land Administration) যেকোনো সময় চূড়ান্ত প্রকাশিত খতিয়ানের যথার্থ ভুল (Bona fide Mistake) সংশোধনের আদেশ দিতে পারে।

৩. The Tenancy Rules, 1955 এর বিধি ২৩(৩) ও ২৩(৪): রাজস্ব অফিসারকে যথাক্রমে স্পষ্ট করণিক ভুল সংশোধন এবং প্রতারণামূলক লিখন বা ভুক্তি (Fraudulent Entry) কর্তন/সংশোধনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

​৩. ভুলের শ্রেণিবিভাগ ও উদাহরণ

​ক. করণিক ভুল (Clerical Mistake):

  • ​সংজ্ঞা: অনিচ্ছাকৃত, অসাবধানতাবশত বা সরল বিশ্বাসে কৃত ভুল, যার পেছনে কোনো অসাধু উদ্দেশ্য ছিল না এবং যা সংশোধন করলে কারও স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় না বা জমির পরিমাণের তারতম্য ঘটে না।
  • ​দৃষ্টান্ত:
    • ​মালিকের নাম, পিতা/মাতার নাম, স্বামীর নাম বা পদবিতে ভুল (যেমন: আঃ রহমানের স্থলে আব্দুর রহমান, হাজেরা খাতুনের স্থলে হাজিরা বেগম ইত্যাদি)।
    • ​’পিং’ (পিতা) এবং ‘জং’ (স্বামী)-এর বিভ্রান্তি।
    • ​ঠিকানা, মৌজা বা জেএল নম্বরে স্পষ্ট ভুল।
    • ​অংশের সাধারণ গাণিতিক ভুল (যেমন: দুই ভাইয়ের ৫০:৫০ অংশ বণ্টন থাকার কথা থাকলেও ৬০:৪০ লেখা)।
    • ​দাগ নম্বরের সংখ্যাক্রমের ভুল বা দাগসূচির ভুলের কারণে খতিয়ানে দাগ বাদ পড়া।
    • ​মোট জমির যোগফলে ভুল কিংবা জমির শ্রেণির করণিক ভুল (নথিপত্রের বিপরীতে ভিটি/আবাদি লেখা)।

​খ. প্রতারণামূলক অন্তর্ভুক্তি (Fraudulent Entry):

  • ​সংজ্ঞা: অসদুপায়ে বা জালিয়াতির আশ্রয়ে জমির মালিকানা, হিস্যা বা তথ্যাদি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে প্রকৃত মালিকের ক্ষতিসাধন করা।
  • ​দৃষ্টান্ত:
    • ​অসাধু যোগসাজশে মাঠ পর্যায় থেকে জাল খতিয়ান সৃজন।
    • ​দলিলের হিস্যার চেয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি বা ভুল হিস্যা লিপিবদ্ধকরণ।
    • ​খাসজমি, অর্পিত সম্পত্তি, ওয়াকফ বা দেবোত্তর জমি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভুক্ত করা।
    • ​মুদ্রিত খতিয়ানে ঘষা-মাজা বা ওভাররাইটিং করে তথ্য বিকৃত করা।

​গ. যথার্থ ভুল বা প্রকৃত ভুল (Bona fide Mistake):

  • ​সংজ্ঞা: কোনো প্রতারণার উদ্দেশ্য ছাড়া জরিপকালে সরল বিশ্বাসে ঘটে যাওয়া বাস্তব ভুল, যা দৃশ্যমান এবং যার সংশোধন মালিকানা স্বার্থের ক্ষতি করে না।
  • ​দৃষ্টান্ত:
    • ​পিতার মৃত্যুর কারণে ওয়ারিশদের নামে রেকর্ড হওয়ার কথা থাকলেও মৃত পিতার নামে রেকর্ড হওয়া।
    • ​খরিদসূত্রে নামজারি হালনাগাদ থাকা সত্ত্বেও জরিপে ভুলবশত পূর্ববর্তী মালিকের নামে প্রকাশ পাওয়া।
    • ​বিজ্ঞ দেওয়ানি আদালতের চূড়ান্ত রায় বা ডিক্রি অনুযায়ী ঘোষিত ব্যক্তির নামে রেকর্ড না হওয়া।
    • ​সরকার কর্তৃক স্থায়ী বন্দোবস্তকৃত খাসজমি বা অধিগ্রহণকৃত জমি যথাযথভাবে রেকর্ড না হয়ে পূর্বের ব্যক্তির নামে বহাল থাকা।

​৪. ভুল সংশোধনের প্রশাসনিক কার্যপদ্ধতি ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া 

ধাপ/বিষয়

নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি ও সময়সীমা

১. আবেদন দাখিল ও রেজিস্ট্রি

আবেদনকারী জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রমাণকসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে আবেদন করবেন। আবেদন প্রাপ্তির দিনেই মিস কেস রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করে আবেদনকারীকে মামলা নম্বরসহ প্রাপ্তিস্বীকার পত্র দিতে হবে।

২. প্রাথমিক তদন্ত ও শুনানি

আবেদন প্রাপ্তির ০৭ কার্যদিবসের মধ্যে ইউনিয়ন/পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা কানুনগো/সার্ভেয়ারকে দিয়ে তদন্ত করাবেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে নোটিশ প্রদানপূর্বক প্রকাশ্য শুনানি গ্রহণ করা হবে।

৩. মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা

মিস কেসটি অনধিক ৯০ (নব্বই) কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।

৪. আদেশের অনুলিপি প্রদান

আদেশ অনুমোদিত বা নামঞ্জুর যাই হোক, আদেশের অনুলিপি ০৭ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে সরবরাহ করতে হবে।

৫. আপিল ও রিভিশনের বিধান

* আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কালেক্টরের (ডিসি) নিকট SAT Act-এর ১৫০ ধারা অনুযায়ী রিভিউ বা ১৪৯(১) ধারা অনুযায়ী রিভিশন করতে পারবেন।* সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদেশের পর ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত রেকর্ড সংশোধন না করে অপেক্ষা করবেন; এর মধ্যে রিভিশন হলে উচ্চ আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন।

৬. রেকর্ড সংশোধন ও বাস্তবায়ন

আদেশ বহাল থাকলে বা রিভিউ/রিভিশন না হলে এসি (ল্যান্ড) নিজ হাতে মূল খতিয়ান বইতে মিস কেস নম্বরসহ সংশোধন করে স্বাক্ষর ও সিলমোহর দেবেন। পরবর্তী ০৭ কার্যদিবসের মধ্যে রেকর্ড রুম ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কপিতে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫. বিশেষ সতর্কতা ও সীমাবদ্ধতা

​১. স্বত্ব স্বার্থের বিরোধ (Title Dispute): সংশোধনের ফলে যদি কারও স্বত্ব বা পরিমাণের প্রকৃত হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে কিংবা দেওয়ানি বিরোধ পরিলক্ষিত হয়, তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না। এটি সরাসরি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল বা দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

২. ভূমি আপিল বোর্ডের এখতিয়ার: ধারা ১৪৯(৪) অনুযায়ী ‘যথার্থ ভুল’ সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার কেবল ভূমি আপিল বোর্ডের। এসি (ল্যান্ড) নিজে সিদ্ধান্ত না দিয়ে মিস কেস নথিসহ প্রস্তাব কালেক্টরের মাধ্যমে ভূমি আপিল বোর্ডে পাঠাবেন।

৩. ঘষা-মাজা/ওভাররাইটিং: প্রতারণামূলক ঘষা-মাজা নজরে এলে মিস কেস চালু ও শুনানি শেষে মতামতসহ নথি সরাসরি কালেক্টরের (ডিসি) নিকট সিদ্ধান্তের জন্য পাঠাতে হবে।

৪. সরকারি ফি: বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত কোর্ট ফি, নোটিশ জারি ফি ও খতিয়ান সরবরাহ ফি ডিসিআর-এর মাধ্যমে আদায় করতে হবে। তবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমির সংশোধনে কোনো কোর্ট ফি প্রযোজ্য হবে না।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট