বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন
Title :
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানমন্ডি ৩২ স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর: ড. ইউনূস–আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ক্ষমতা নয়, জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় শক্তি অতীতের শিক্ষা, বর্তমানের বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতির পথরেখা যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। অবশেষে বৈধতা পাচ্ছে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা ভবন। রাষ্ট্রের চাকা ঘুরুক, কিন্তু মানুষ যেন তার নিচে না পড়ে ঢাকায় সব বদলে গেলেও নাবিস্কো মোড়ের বিস্কুটের সেই ঘ্রাণটা আজও বদলায়নি তেজগাঁওয়ের শিল্প-ঐতিহ্য, নাগরিক স্মৃতি ও একটি পরিচিত মোড়ের গল্প শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে অনিশ্চিত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নারী চালক-কন্ডাক্টর দিয়ে চলবেআজ চালু হচ্ছে ‘পিংক বাস’, যেসব রুটে মিলবে সেবা মামলা জট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ১২ কার্যদিবসে হাইকোর্টে ৬২ হাজার ৬৩৭ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন।
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর জাতীয় সংসদ কক্ষেই ভোট গণনা শুরু হয়। গণনা শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এর আগে দুপুর ২টার পর জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটের শুরুতেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ভোট দেন। এরপর সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা পর্যায়ক্রমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
১৯৯১ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ফলে এবারের নির্বাচনকে ১৯৯১ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পদে এবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের আগে থেকেই সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের জয়ের সম্ভাবনা রাজনৈতিক মহলে জোরালো ছিল।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফিরে আসা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। রাষ্ট্রপতি পদ সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ হলেও সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হওয়ায় পদটির রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সংসদে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানানো হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সামনে নতুন দায়িত্ব
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অধিকারী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলীয় রাজনীতির সক্রিয় নেতৃত্ব থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার উত্তরণ রাষ্ট্রপতি ভবনের ভূমিকা, সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে কী ধরনের প্রভাব ফেলে—সেদিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ বজায় রাখা। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে তাই একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট